
মো. মাসুম বিল্লাহ-খুলনা :
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও স্তব্ধতা নেমে এসেছে খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে। তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় আজ মঙ্গলবার বিকেলে খুলনা মহানগর বিএনপির উদ্যোগে এক বিশাল দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নগরীর সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির তেতুলতলা মোড় কার্যালয়ে আয়োজিত এই দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক ও খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
দোয়া মাহফিলের আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ তাঁর জন্য দোয়া করছে, সারা বিশ্বের মানুষ তাঁর জন্য দোয়া করছে। তিনি চলে যাবেন কেউ ভাবতে পারেনি। দল-মত নির্বিশেষে সকলে তাঁকে অভিভাবক হিসেবে মেনে নিয়েছে। আপসহীন ও জনপ্রিয় এই নেত্রীর দেশ পরিচালনায় মেধা, প্রজ্ঞা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা চিরদিন মানুষ মনে রাখবে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশ এক মহান অভিভাবককে হারালো। তিনি আজীবন দেশ ও জনগণের অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন। তাঁর এই অভাব পূরণ হওয়ার নয়।” খুলনা-২ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন যে, খুলনার সর্বস্তরের মানুষ আজ তাঁদের প্রিয় নেত্রীর বিদায়ে শোকাভিভূত।
বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, “ম্যাডাম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ছিল ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল। এমনকি জীবনের শেষ দিনগুলোতেও তিনি দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে ভাবতেন। তাঁর আদর্শকে বুকে ধারণ করেই আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।”
দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, আসাদুজ্জামান মুরাদ,জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, মনিরুজ্জামান মনি,মাহবুব কায়সার,সুমন,নজরুল ইসলাম বাবু, আলী আকবর, ইউসুফ হারুন মজনু,শামসুজ্জামান চঞ্চল, শেখ জামিরুল ইসলাম জামিল, শমসের আলী মিন্টু,মাজহারুল ইসলাম,আসিফ,শেখ বায়েজীদ খুলনা মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা এবং সাধারণ মানুষ। মোনাজাতে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি ও জান্নাতুল ফেরদাউস কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। এছাড়াও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করা হয়।
উল্লেখ্য যে, বেগম খালেদা জিয়া আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই খুলনার দলীয় কার্যালয়গুলোতে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন। শোকের চিহ্ন হিসেবে শহরের বিভিন্ন স্থানে শোক ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে।

