
নিজস্ব প্রতিনিধি :
…সম্পাদকীয়…
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি। নির্বাচন কোনো সহজ প্রক্রিয়া নয়—নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনমুখী সময়ে নানা প্রতিকূলতা, ষড়যন্ত্র ও চাপ সবসময়ই বিদ্যমান থাকে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এসব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেই নির্বাচন সম্পন্ন করাই একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক শক্তির পরিচয়। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।
সম্প্রতি দেশপ্রেমিক ও সত্য-ন্যায়ের পক্ষে সোচ্চার কণ্ঠ শরিফ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ড আমাদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছে। এমন একটি হত্যাকাণ্ড স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়—নির্বাচনী পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি পক্ষ তৎপর থাকতে পারে। এ ধরনের ঘটনা শুধু ব্যক্তি হত্যাই নয়, বরং গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।
এই বাস্তবতায় দল-মত নির্বিশেষে একটি বিষয় স্পষ্ট—বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী কিংবা অন্য যে কোনো রাজনৈতিক দলই হোক, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি বৈধ ও জনসমর্থিত সরকারের বিকল্প নেই। একমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমেই গঠিত বৈধ সরকারই দেশকে অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত নানাবিধ প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে পারে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, ওসমান হাদীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ দুইটি সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংবাদমাধ্যমে হামলা কোনোভাবেই শুভ ফল বয়ে আনে না। মত প্রকাশে ভিন্নতা থাকবেই—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। সংবাদ প্রকাশে বিরোধিতা থাকলেও তা যুক্তি ও আইনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। সহিংসতা ও ভীতি প্রদর্শন কখনোই দেশকে এগিয়ে নিতে পারে না।
এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো ঐক্য। বিভাজন নয়, বরং সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলা। বড় একটি রাজনৈতিক দল যারা বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করে ‘ফ্যাসিস্ট’ ব্র্যান্ড নিয়ে নানা বক্তব্য দিচ্ছে—এই মুহূর্তে তাদের হিসাব-নিকাশে না গিয়ে দেশের বাস্তবতা ও ভবিষ্যতের দিকেই দৃষ্টি দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
জাতীয় স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে এবং সর্বোপরি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে—এখন সময় একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাওয়ার। এ পথই দেশকে স্থিতিশীলতা, অগ্রগতি ও নিরাপদ ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

