
মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম :
ময়মনসিংহ নগরীর ১নং ওয়ার্ডের সালেহা মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় চাঁদাবাজির ভয়াবহ রূপ আবারও মানবতাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। রিকশাযোগে বাড়ি ফেরার পথে এক অসহায় মায়ের কোলে থাকা শিশুকে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দিয়েছে তথাকথিত চাঁদাবাজদের নিষ্ঠুরতা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ওই এলাকায় একটি হাতি ব্যবহার করে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করছিল একটি প্রভাবশালী চক্র। কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই তারা হয়ে ওঠে মারমুখী। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
রিকশাচালক চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে চাঁদাবাজরা হাতির সুর ব্যবহার করে রিকশাটি উল্টে দেয়। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় রিকশায় থাকা এক অসহায় মা রাস্তায় ছিটকে পড়েন। তার কোলেই ছিল কয়েক মাসের শিশুটি। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় নেমে আসে শোক ও ক্ষোভের ছায়া। কিন্তু মর্মান্তিক এখানেই শেষ নয়। অভিযোগ উঠেছে, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্টমর্টেম ঘরের দায়িত্বে থাকা কিছু লোক শিশুটির লাশ হস্তান্তরের জন্য অসহায় মায়ের কাছে অর্থ দাবি করছে। টাকা দিতে না পারায় এখনো মর্গেই পড়ে আছে শিশুটির নিথর দেহ।
অসহায় মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, আমার সন্তানটাকে হারালাম, এখন শেষবারের মতো কোলে নেওয়ার অধিকারটুকুও পাচ্ছি না। টাকা ছাড়া লাশ দেবে না বলছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হাসপাতালের ভেতরে ঘটে যাওয়া কথিত অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তারা দাবি জানান—
হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি বন্ধে দ্রুত অভিযান
দায়ীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
পোস্টমর্টেম ঘরে অর্থ দাবির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত
অসহায় পরিবারকে রাষ্ট্রীয় সহায়তা প্রদান
এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা এখন প্রশ্নের মুখে। মানবিক বিপর্যয়ের এই ঘটনায় কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

