
নিজস্ব প্রতিনিধি :
মাদারীপুর-৩ আসন—যা কালকিনি ও ডাসার উপজেলা নিয়ে গঠিত—সাম্প্রতিক সময়ে নতুন বিতর্কে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আনিছুর রহমান তালুকদার খোকনকে ঘিরে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল, স্থানীয় রাজনীতিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা অভিযোগ, সমালোচনা ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শাহজাহান খান, সোহেল হাওলাদার, খোকন তালুকদার: ‘ত্রিমুখী সম্পর্ক’ নিয়ে আলোচনা, বিভিন্ন অনলাইন ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আলোচনায় দাবি করা হচ্ছে—সাবেক মাদারীপুরের এমপি শাজাহান খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন সোহেল হাওলাদার। অভিযোগ রয়েছে, ৫ই আগস্টের সহিংসতায় নিরীহ মানুষ ও ছাত্রছাত্রী হত্যার ঘটনায় সোহেল হাওলাদারের নাম ওঠে—যদিও বিষয়টি এখনো বিচারাধীন। স্থানীয়দের অভিযোগ ও অনলাইন রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে এই সোহেল হাওলাদার আনিছুর রহমান তালুকদার খোকনের ঘনিষ্ঠ সহকারী হিসেবে কাজ করছেন।
এই তিনজনের তোলা কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
খোকন তালুকদারকে ঘিরে অনিয়ম ও দাবি, বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালের প্রতিবেদন এবং স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, আনিছুর রহমান তালুকদার খোকনের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে—জমি দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অর্থ আদায় (বিশেষ করে ৫ই আগস্টের পরে হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ স্থানীয়দের দাবি)। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ অভিযোগ করছেন—ডাসার ও কালকিনি অঞ্চলে খোকন তালুকদার ও তার ঘনিষ্ঠ মহল তাদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করছে।
সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকটি সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে খোকন তালুকদারের আশপাশে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত—এমন অভিযোগ রয়েছে। যাদের নাম স্থানীয়রা তুলে ধরেছেন—সেলিম চৌধুরী, জুয়েল (যাকে মাদকাসক্ত বলে অভিযোগ), নূরু তালুকদার, বনি আমিন, শামীম মোল্লা, ডাসার উপজেলার একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন—এদের কার্যক্রমে তারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
খোকন তালুকদারের বিরুদ্ধে মামলা সংক্রান্ত তথ্য, কিছু অনলাইন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে—আনিছুর রহমান তালুকদার খোকনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলাসহ একাধিক অভিযোগ আদালতে চলমান। মেয়ের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তাকে চাকরী দেওয়ার কথা বলে ধর্ষণ করা হয়েছেে এবং প্রতিনিয়ত তাকে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগকারী দাবি করেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনী মাঠে পরিবর্তন: জামায়াতের ডা. রফিকুল ইসলাম এগিয়ে—এমন দাবি, স্থানীয় পর্যায়ে করা অনানুষ্ঠানিক জরিপের দাবি অনুযায়ী, জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী ডা. রফিকুল ইসলাম প্রায় ৮০% এগিয়ে আছেন—এমন তথ্য সামাজিক মাধ্যমে ঘুরছে। তবে এটি কোনো সরকারি বা স্বীকৃত জরিপ নয়—বরং স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনানুষ্ঠানিক ধারণা।
দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে—মাদারীপুর-৩ আসনে দিন দিন বেড়ে চলা অভিযোগ, ভেতরের অসন্তোষ ও জনমতের পরিবর্তন বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
অনেকে প্রশ্ন তুলছেন—দল কি আনিছুর রহমান তালুকদার খোকনকে নিয়ে এই বিতর্কমুখর অবস্থায় নির্বাচন পরিচালনা করবে, নাকি প্রার্থী পরিবর্তন করবে? অনেক বিএনপির প্রার্থী আনিছুর রহমান তালুকদার খোকনের থেকেও এগিয়ে আছে বলে মনে করেন। যাদের নমিনেশন দিলে ধানের শীষ বিপুল ভোটে জয় লাভ করবে বলে আশা করছে এলাকাবাসী।
স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাদারীপুর-৩ এখন কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
সামনের দিনগুলোতে দলীয় সিদ্ধান্ত, আইনগত প্রক্রিয়া এবং জনমত—এই তিনটির ওপরই নির্ভর করবে এই আসনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক।

