
সফটওয়্যার কোম্পানির আড়ালে সন্দেহজনক কার্যক্রম, বেতন না পেয়ে কর্মীদের মানবিক বিপর্যয়—দুদক ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি।
রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান বালিপ টেক লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ কর্মীকে বেতন-বঞ্চিত করা, ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজে আটকে রাখা, আর্থিক প্রতারণা এবং বিভিন্ন অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কোম্পানির চেয়ারম্যান তপু আহমেদ ওরফে মুশতাক আহমেদসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কর্মীরা দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতাসীন মহলের প্রভাব ব্যবহার এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ তদন্তে কর্মীরা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রতারণার টাইমলাইন
৪ জুন: মে মাসের অর্ধেক বেতন; বাকিটা ঈদের পর দেওয়ার আশ্বাস — কিন্তু টাকা আর দেওয়া হয়নি।
জুন–জুলাই ২০২৫: বারবার নতুন তারিখ দিলেও বেতন মেলেনি।
৩ আগস্ট ২০২৫: নতুন ‘অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান’ এসে আরও সময় চান।
১৪ ও ২১ আগস্ট ২০২৫: বারবার ক্ষমা চেয়ে নতুন তারিখ।
২৮–৩১ আগস্ট ২০২৫: “ইনভেস্টর আসছে”, “ফ্লাইট বাতিল”, “গাড়িতে টাকা আসছে”—এমন অজুহাত। অফিস বন্ধ ঘোষণা।
সেপ্টেম্বর ২০২৫: মানববন্ধন করতে চাইলে কর্মীদের থামিয়ে বলা হয়—ইনভেস্টর অফিস পরিদর্শনে আসছে।
২ নভেম্বর ২০২৫: শ্রম আদালতে জানানো হয়—টাকা দিতে আরও দেড়–দুই মাস লাগবে। আজ পর্যন্ত বেতন পরিশোধ হয়নি।
চেয়ারম্যান তপু আহমেদের পরিচয় নিয়ে গুরুতর অভিযোগ
ভুক্তভোগীদের দাব তার দুটো ভিন্ন এনআইডি আছে—তপু আহমেদ ও মুশতাক আহমেদ নামে। অতীতে ক্যাসিনো চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকা ও জেল খাটার অভিযোগ। আগে “অক্সডোরা” নামে একটি প্রতিষ্ঠানেও কর্মীদের বেতন বাকি রেখে কোম্পানি বন্ধ করেন। বালিপ টেকের বেশিরভাগ পরিচালকই বিভিন্ন ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ এবং অতীতে দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন বলে দাবি। সব অভিযোগই ভুক্তভোগীদের বক্তব্য অনুযায়ী।
২০০ কর্মীর মানবিক বিপর্যয়
বেতন না পেয়ে কর্মীদের জীবনে ভয়াবহ সংকট নেমে আসে, একজন কর্মী ছাদ থেকে লাফ দিতে গেলে সহকর্মীরা বাঁচান। অনেক কর্মী উচ্চ সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছেন। নারী কর্মীরা অফিসের কিছু পরিচালকের হয়রানির শিকার হয়েছেন। কেউ কেউ ভাড়া দিতে না পেরে বাসা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। একজন কর্মীর বাবা চিকিৎসার খরচ না থাকায় মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে। নতুন বাবা হওয়া এক কর্মী সন্তানের জন্মের খরচ মেটাতে ঋণগ্রস্ত হয়েছেন। মাসের পর মাস “পরের মাসে বেতন পাবেন” মিথ্যা আশ্বাসে সবাইকে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। প্রতারণার কারণে বহু কর্মীর জীবন কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে।
আইনি সহায়তা ও জরুরি আবেদন
ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের দাবি, দুদক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, এবং শ্রম আদালত দ্রুত হস্তক্ষেপ করুক।পলাতক চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করা হোক। সকল কর্মীর বকেয়া বেতন ও প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ আদায় করা হোক।

