
রায়হান শেখ-বিশেষ প্রতিনিধি :
বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার দলুয়াগুনী গ্রামের তরমুজ চাষি হাবিবুল্লাহ শেখ কীটনাশক বিক্রেতার ভুলে ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় লাইসেন্সধারী কীটনাশক ব্যবসায়ী মো. হাসান আলির বিরুদ্ধে, যিনি ভুলবশত পোকা দমনের ওষুধের বদলে ঘাসনাশক সরবরাহ করেন।
চাষি হাবিবুল্লাহ শেখ জানান, তিনি ১ একর ২০ শতক জমিতে তরমুজের চাষ করেছিলেন। ফসল প্রায় তোলার উপযোগী হয়ে উঠেছিল। গত সপ্তাহে পোকা দমনের ওষুধ নিতে গেলে হাসান আলির দোকান থেকে ওষুধ কেনেন তিনি। কিন্তু ভুল করে বিক্রেতা তাঁকে ঘাস ও লতাপাতা নিধনকারী রাসায়নিক দেন।
“ওষুধটি জমিতে স্প্রে করার পর দেখি গাছের পাতা ঝলসে যাচ্ছে। দুই দিনের মধ্যেই পুরো ফসল মরে যায়,” বলেন হতাশ হাবিবুল্লাহ।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি বিক্রেতাকে জানালে হাসান আলি তাঁকে আবার সিনজেন্টা কোম্পানির অ্যামিস্টার টপ নামের আরেকটি ওষুধ দেন এবং বলেন, “এটি স্প্রে করলে ফসল ঠিক হয়ে যাবে।” কিন্তু জমির পাশে থাকা এক কৃষক জানান দেন যে বোতলটির মেয়াদ আগেই—২০২৪ সালেই—শেষ হয়ে গেছে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় হাবিবুল্লাহ উপজেলা কৃষি অফিসে অভিযোগ দায়ের করেন।
কৃষি অফিসের এক সূত্র জানায়, এতে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে, যা চাষির অর্থনৈতিক অবস্থায় বড় আঘাত এনেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত চাষি হাবিবুল্লাহ শেখ বলেন, “আমার ফসল নষ্ট হয়ে গেছে, আমি সর্বস্বান্ত। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ চাই।”
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, এই ধরনের অবহেলা কৃষকদের জীবনে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনে। তাঁরা বিক্রেতাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুলে আর কোনো কৃষক সর্বস্বান্ত না হয়।

