
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঘোষিত প্রার্থী তালিকাকে কেন্দ্র করে দলে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র আলোচনা–সমালোচনা ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা।
২৩৭টি আসনের প্রাথমিক মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলের অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, হাই কমান্ড ইতোমধ্যে অন্তত ২৫ থেকে ৩০টি আসনের প্রার্থিতা পুনর্বিবেচনা করছে, যেখানে মনোনয়নপ্রাপ্ত কয়েকজনকে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে “গ্রহণযোগ্যতা, অতীত ভূমিকা ও মাঠপর্যায়ের জনপ্রিয়তা” নিয়ে।
🔹 তৃণমূলে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ
বিভিন্ন অঞ্চলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ মিছিল, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে “বিতর্কিত বা অযোগ্য প্রার্থী” পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছেন।
বিশেষ করে মাদারীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও চট্টগ্রামের কয়েকটি আসনে ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে।
মাদারীপুর-১ আসনের প্রার্থিতা তো ইতোমধ্যেই স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে দলটি।
একাধিক তৃণমূল নেতার দাবি, “যাদের দীর্ঘদিন মাঠে দেখা যায়নি, কিংবা যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বিতর্কের অভিযোগ আছে, তাদের টিকিট দেয়ায় দলীয় মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
🔹 হাই কমান্ডে উঠেছে প্রশ্ন
দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে,
ঢাকা-১৮, চাঁদপুর-৩, ফেনী-২, নরসিংদী-১, ময়মনসিংহ-৮ ঈশ্বরগঞ্জ, মাদারীপুর ৩, কুষ্টিয়ার দুটি আসন, চট্টগ্রামের দুটি আসন, কুমিল্লা-৬ আসনে মনোনয়ন নিয়ে হাই কমান্ডে বিশেষ আলোচনায় হয়েছে। বেশ কিছু অভিযোগ নয়াপল্টন অফিসে জমা পড়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
তৃণমূলের ব্যাপক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পর এই আসনগুলোর বিষয়ে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন —
> “এই মুহূর্তে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা সবচেয়ে জরুরি। কিছু সিদ্ধান্ত হয়তো পুনর্বিবেচনা করতে হবে, কারণ জনগণ যাকে চায় না তাকে দিয়ে নির্বাচন জেতা সম্ভব নয়।”
🔹 পরিবর্তনের সম্ভাবনা
দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই কয়েকটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের ঘোষণা আসতে পারে।
এছাড়া সমমনা জোটের সঙ্গে সমন্বয়ের অংশ হিসেবে আরও ৬০টির বেশি আসন পরে ভাগাভাগি করে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
🔹 ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি যদি তৃণমূলের দাবিকে উপেক্ষা করে প্রার্থী তালিকা অপরিবর্তিত রাখে, তাহলে নির্বাচনকালীন ঐক্য ও জনসম্পৃক্ততা নষ্ট হতে পারে।
তবে হাই কমান্ড চাইছে, “যোগ্য, ত্যাগী ও মাঠে সক্রিয়” নেতাদেরই শেষ পর্যন্ত প্রার্থী করা হোক।

