
মোঃ ওয়াহেদ আলী :
ঋতুচক্র অনুযায়ী শীতের আনুষ্ঠানিক আগমন হতে এখনও মাসখানেক বাকি, তবে লালমনিরহাটের প্রকৃতিতে ইতোমধ্যেই ধরা দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।
ভোরবেলা ঘুম ভাঙতেই জানালা খুলে দেখা যায় চারদিক কুয়াশায় মোড়া, যেন এক মায়াময় আবরণে ঢাকা পৃথিবী। সামান্য দূরত্বেও কিছু দেখা কঠিন হয়ে পড়ছে। সূর্যের আলোর দেখা মিলছে খানিকটা দেরিতে।
উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাট যেন হঠাৎ করেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে। হিমালয়ের পাদদেশ ঘেঁষা এ জেলায় ভোর রাত থেকেই বইছে ঠান্ডা হাওয়া, চারপাশে জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে শীতের আগমনী আমেজ।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ভোরে লালমনিরহাট উপজেলার আশপাশের এলাকায় ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় পুরো অঞ্চল।
এর আগে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার সঙ্গে বইতে থাকে ঠান্ডা হাওয়া। এতে চারপাশে তৈরি হয় একদম শীতের আগমনী পরিবেশ, পুরো জেলাজুড়ে বিরাজ করে শীতের আমেজ।
সকালে বাইরে পা রাখলেই চোখে পড়ে, গাছের পাতায় আর মাকড়সার জালে মুক্তোদানার মত ঝুলে আছে শিশিরবিন্দু। দৃষ্টিনন্দন সেই দৃশ্য মন ভরিয়ে দেয় প্রশান্তিতে।
ভোরে কাজে বের হতে বিড়ম্বনায় পড়ছেন দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষরা। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই যে দিনের বেলাতেও যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
বাতাসে হালকা শীতের ছোঁয়া, কিন্তু এখনো তীব্র ঠান্ডা পড়েনি। তাই এই কুয়াশাচ্ছন্ন সকালগুলো যেন একরাশ শান্তি ও রোমাঞ্চ এনে দেয়।
প্রকৃতি যেন ধীরে ধীরে বদলে নিচ্ছে নিজের সাজ। দূরের মাঠে দেখা যাচ্ছে সবজির চারা, খেজুর গাছের ডগায় উঠছে রস টপটপ করে পড়ার প্রস্তুতি। শিশিরে ভেজা পথঘাটে সকালের হাঁটাচলা হয়ে উঠছে উপভোগ্য এক অভিজ্ঞতা।
কুড়িগ্রাম আবহাওয়া অফিস জানায়, তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমছে, যা শীত মৌসুমের আগমনকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় আগামী কয়েকদিন সকাল বেলা কুয়াশার পরিমাণ আরও বাড়বে।
সামনের দিনগুলোয় যখন কুয়াশা আরও ঘন হবে, বাতাসে বইবে হিমেল পরশ, তখন প্রকৃতি পাবে নতুন রূপ। এই সকালের কুয়াশা যেন মৃদু কণ্ঠে জানিয়ে গেল শীত আর খুব দূরে নয়।

