
মোঃ জাহিদ হোসেন জিমু-গাইবান্ধা :
গাইবান্ধা সদর উপজেলা তুলশীঘাট কাশিনাথ খেলার মাঠে, মধ্যবর্তী এলাকা জুলাই যোদ্ধা গাইবান্ধা গত ২৬ অক্টোবর ২০২৫ খ্রি. এই মেলার উদ্বোধন করেন।
মেলায় প্রবেশ মূল্যের নামে ২০ টাকা দরে টিকেট বিক্রি হচ্ছিল।
প্রতিদিন গাইবান্ধা জেলা ইউনিয়ন বিভিন্ন উপজেলায় টিকেট নিয়ে সবাই বের হয় অটোরিকশা ও রিকশায়। প্রতিটি রিকশা-অটোরিকশায় ২০টি বান্ডিলে পাঁচ কালারের ২ হাজার টিকেট থাকে। প্রতি টিকেটের দাম ২০ টাকা হারে ২ হাজার টিকেট বিক্রি হচ্ছিল ৪০ হাজার টাকা।
সে হিসেবে তিনশ রিকশা ও অটোরিকশায় ১ কোটি ১২ লাখ টাকা বিক্রি হয়। এ ছাড়া, মেলা মাঠের ভেতর ও মেলা গেট এবং গ্রামীণ কুটির শিল্প মেলা, জুলাই যোদ্ধা গাইবান্ধা অন্তত একশ কর্মী এই টিকেট বিক্রি করে। মধ্যরাতে মেলা কর্তৃপক্ষ কমপক্ষে দামি একটি মোটরসাইকেল, আট-দশ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ২ লাখ টাকার বিভিন্ন ধরণের আকর্ষণীয় পুরস্কার দিয়ে প্রতিদিন ড্র করছে যা স্থানীয় ডিস লাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হচ্ছিল।
দীর্ঘদিন ধরে মেলার নামে এমন র্যাফেল ড্রর কার্যক্রমে ক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন।
বিভিন্ন অভিযোগ ও স্বারকলিপিতে আছে, র্যাফেল ড্রর পাশাপাশি মেলা ঘিরে বেড়েছে চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ। মেলার অভ্যন্তরে চলছে জুয়া ও অনৈতিক কর্মকান্ড।
এসব লটারি, জুয়ার লোভে পড়ে নিঃস্ব হয়ে যাবে অসংখ্য পরিবার।
যা বিগত দিনে দেখা গিয়েছিল ঠোলভাঙ্গায়।
এসব জুয়া অবিলম্বে বন্ধ করার দাবিতে ৫ নভেম্বর: তুলসীঘাটের কুটির শিল্প বাণিজ্য মেলাটি আজ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জানা গেছে, এক বছরের মধ্যে মেলা তিনবার অনুষ্ঠিত হওয়ায় গাইবান্ধা জেলার সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। মেলায় লটারি ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় শিল্পী ও দর্শকরা জানিয়েছেন, মেলার পুনরাবৃত্তি এবং লটারি ব্যবস্থার কারণে প্রত্যাশিত ব্যবসায়িক সুবিধা পাওয়া যায়নি। মেলার বন্ধ হওয়ার খবর এলাকার মানুষের মধ্যে বিস্ময়, বিতর্ক এবং ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

