
নিজস্ব প্রতিনিধি :
শিরোনাম : হাইব্রিড নেতাদের দাপট, ত্যাগীরা অবহেলায়—আগামী নির্বাচনে বিএনপির জন্য উদ্বেগজনক সংকেত।
সারসংক্ষেপ : ওয়ার্ড-থানা-জেলায় ছড়িয়ে থাকা ‘হাইব্রিড’—অর্থাৎ বিভিন্ন সময়ে লিয়াজু বা সুবিধাভোগী হিসেবে অন্য ধারার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা নেতা/কর্মীরা—বর্তমান সময়ে দলের গতিশীল ত্যাগী নেতাকর্মীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে। অনেক প্রান্তিক ত্যাগী অভিযোগ করেন মহানগর বা কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে তাদের উপেক্ষা করা হচ্ছে; ফল হিসেবে তৃণমূল দুর্বল হচ্ছে এবং আগামী নির্বাচনইয়ের ফলাফলকে ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছে। অবিলম্বে কড়া ভেরিফিকেশন, স্থানীয় মূল্যায়ন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা না হলে দলীয় ঐতিহ্য ও ভবিষ্যত বিপন্ন হতে পারে।
১) সমস্যা সংক্ষিপ্তভাবে — হাইব্রিড কী এবং ত্যাগী কারা?
হাইব্রিড: ঐ নেতা/কর্মী যারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলের সঙ্গে লিয়াজু-ভিত্তিক সম্পর্ক রেখেছেন; ক্ষমতাসীন বা স্থানীয় ক্ষমতার কাছে সুবিধাভোগী পথ বেছে নিয়েছেন—ফলে তারা রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত।
ত্যাগী নেতাকর্মীরা: গত ১৭ বছরে আন্দোলন-সংগ্রামে আটক, মামলাযুক্তি বা অর্থ-সামাজিক ক্ষতির শিকার হয়েও দলের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে আসা কর্মীরা; ভেতরে থেকেই সংগঠন ধারনের মূল শক্তি।
২) কীভাবে সমস্যা প্রকাশ পাচ্ছে? (ধাপে ধাপে)
1. স্থানীয় সত্যায়ন ভাঙছে: অনেক ওয়ার্ড/থানার ত্যাগী নেতারা জানাচ্ছেন—মহানগর বা কেন্দ্র থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ নেই; সিদ্ধান্তগুলো স্থানে বসে নেয়া হয়, স্থানীয় ফিডব্যাক থাকে না। এই শূন্যতা হাইব্রিডদের জন্য সুযোগ তৈরি করে।
2. কমিটি গঠন ও মনোনয়ন প্রভাবিত হচ্ছে: অনেক ক্ষেত্রে কমিটি ও মনোনয়ন তৈরিতে হাইব্রিডদের প্রাধান্য দেওয়া হলে ত্যাগীদের সুযোগ কমে যায়; এতে মাঠ দুর্বল হয় এবং ভোটের দিন অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
3. স্থানীয় কর্মকাণ্ডে অনুপস্থিতি: আন্দোলন-সংগ্রামে যারা এগিয়ে এসেছেন, তারা আজকে নিজ এলাকা থেকে দূরে—অর্থাভাবে বা সামাজিক অবক্ষয়ে—তাদেরকে সহায়তা না করলে তারা সংগঠনে ফিরবে না; ফলে স্থানীয় নেটওয়ার্ক ঝুঁকির মুখে।
৩) প্রভাব — কেন এটা ভবিষ্যতে বিপজ্জনক?
মাঠের শক্তি ঝরে পড়া: ত্যাগীদের অবহেলার ফলেই স্থানীয় মোবাইলাইজেশন ক্ষমতা কমে যাবে; ফলাফল প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচনী হারে প্রভাব ফেলতে পারে।
দলীয় নৈতিকতা ও বিশ্বাসহীনতা: যদি সুবিধাভোগী নীতিই জিতে যায়, তৎপর নেতাদের মনোবল নেমে আসে এবং দলের আদর্শগত স্তম্ভ দুর্বল হয়।
৪) পাঠানো বার্তা — ত্যাগীরা কি বলছে?
তাঁদের বক্তব্য সংক্ষেপে: “যারা রাস্তায়-চাপায় মামলা-জেল সইয়ে এসেছেন, তাদের অবস্থা খুঁজে দেখুন। জায়গা-জমি বিক্রি করে মামলা চালানোদের জীবন-যাপন দ্বিধাগ্রস্ত; এই ত্যাগীদের সাথে দলের যোগাযোগ রাখুন—কারণ কঠিন সময়েই তারা পাশে থাকবে।” (এই দাবি রীতিমতো দলের অভ্যন্তরে বহুল আলোচিত)।
৫) করণীয় — হাই কমান্ডে চাওয়া কয়েকটি পদক্ষেপ (স্টেপ বাই স্টেপ)
1. অবিলম্বে স্থানীয় ভেরিফিকেশন টিম গঠন: প্রতিটি ওয়ার্ড, থানা ও জেলা পর্যায়ে ত্যাগী ও সক্রিয় কর্মীদের তালিকা তৈরি। (স্থানীয় জেনুইন তালিকা প্রাথমিক ভিত্তি)।
2. মাইলস্টোন ভিত্তিক মূল্যায়ন: শুধু নাম নয়—গত ১০ বছরের রাজনৈতিক কার্যক্রম, আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও মামলার ইতিহাস যাচাই করে অগ্রাধিকার দিন।
3. স্থানীয় প্রতিরক্ষা ও সহায়তা সিস্টেম: মামলা-কীট, আর্থিক অস্থিরতা বা সামাজিক সুরক্ষার জন্য কনস্বরভেটিভ ফান্ড/সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থা করুন যাতে ত্যাগীরা ফিরতে প্রলুব্ধ হন।
4. সাইবার/ডেটা জোন গঠন: প্রতিটি নেতাকর্মীর তথ্য অনলাইনে রেকর্ড করে হাই কমান্ডকে আপডেট পাঠানোর জন্য কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রিত সাইবার সেল বা ডেটাবেস রাখুন—এতে মনোনয়ন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হবে। (লক্ষ্য হোক স্থানীয় ভিত্তি পুনরুদ্ধার)।
5. স্বচ্ছ মনোনয়ন নীতিমালা প্রকাশ করুন: মনোনয়ন মানদণ্ড খোলাসা করুন—যাতে ত্যাগী ও সক্রিয় নেতারা নিশ্চিত হতে পারেন তাদের মূল্যায়ন হবে।
৬) কাদের প্রতি সতর্কবার্তা
যারা আগামী নির্বাচনে “সহজ পথে” জয় নিশ্চিত করতে কেন্দ্র/নগর দখল করে থাকেন—তারা যদি দলের ত্যাগী কর্মীদের প্রতি অবহেলা চালিয়ে যান, তাহলে পারিপার্শ্বিক আস্থাহীনতা ও মাঠে ধস পড়বে; বিপর্যয় অনিবার্য। (স্থানের কাগজপত্র ও স্থানীয় নাম-নথি দিয়ে যাচাই করা জরুরি)।
৭) উপসংহার
বিএনপির ভবিষ্যৎ মাঠ-ভিত্তির ওপরই নির্ভরশীল। হাইব্রিডদের কৌশলে সাময়িক সুবিধা লাগতে পারে—কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ত্যাগী নেতাকর্মীরা যে আদর্শ ও স্থানীয় নেটওয়ার্ক ধরে রেখেছেন, সেটাই আসল শক্তি। সুতরাং: যদি এখনই ত্যাগীদের তালিকাভুক্তি, পুনরায় সংহতি ও স্বচ্ছ মনোনয়ন কার্যক্রম চালু না করা হয়, আগামী নির্বাচনে দলের জন্য ফল ভয়াবহ হতে পারে।

