
গাইবান্ধায় সুন্দরী প্রেমিকার বিষ মিশানো শরবতে প্রবাসী প্রেমিককে হত্যার চেষ্টাঃ অতঃপর প্রেমিকা-স্বামীসহ তিনজন গ্রেফতার!
মোঃ জাহিদ হোসেন জিমু
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নে শরবতে বিষ মিশিয়ে শাফিউল হক (৩৫) নামে এক প্রবাসীকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। মৃত ভেবে একটি স্থাণীয় সুজন মিয়ার
নির্মানাধীন ফার্মের মাঝে রেখে যায় ।
পরের দিন ১৯ অক্টোবর সকালে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সাঘাটা হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রেমিকা সহ ৫/ ৭ জনকে আসামী করে সাঘাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করলে প্রেমিকার স্বামী ও ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে ।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়,কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার কাইম্যার ঘোনা গ্রামের মৃত গোলাম কবিরের ছেলে শাফিউল হক দীর্ঘ ২১ বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত।
২০২০ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিগো লাইভ (ইওএঙ খরাব) অ্যাপের মাধ্যমে সাঘাটা উপজেলার কচুয়া গ্রামের সুরাইয়া আক্তার মৌ-এর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং এর ভিডিও কলে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে,প্রেমিকার পরামর্শে শাফিউল তার নামে ছয় শতাংশ জমি ক্রয় করে সেখানে একটি ঘর ও গরুর ফার্ম নির্মাণ করেন। বিদেশে অবস্থান কালেই তিনি প্রায় ৫০ লাখ টাকা পাঠান বলে দাবি করেন।
এ নিয়ে সাঘাটা থানায় একটি মামলাও রয়েছে। প্রবাসী শাফিউল জানান, এক বছর আগে জানতে পাড়ি সুরাইয়া আক্তার মৌ বিবাহিত। তার স্বামীর নাম দিপু রানা ।
এরপর থেকেই তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে । চলতি বছরের ১৭ অক্টোবর আমি দেশে এসে বিষয়টি মীমাংসার জন্য দেখা করতে গেলে তারা আমাকে বাড়িতে ডেকে নেয়।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন মৌ, তার স্বামী দিপু রানা ও ছোট ভাই নয়ন ।
কথা বলার একপর্যায়ে মৌ আমাকে শরবত দেয়। শরবত খাওয়ার কিছুক্ষণ পর আমি অচেতন হয়ে পড়ি । চোখ খুলে
দেখি হাসপাতালে।
এ ঘটনার পর স্থানীয়রা মানিকগঞ্জ বাজার অদূরে একটি মুরগির ফার্মের পাশে থেকে স্থানীয় লোকজন অচেতন অবস্থায় শাফিউলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন ।
অভিযুক্ত সুরাইয়া আক্তার মৌয়ের মা আবেদা সুলতানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা এসব কিছুই জানি না। আমার মেয়ে বিগো অ্যাপে যা টাকা কামাই করেছে, সেই টাকা কই গেল ।
তবে উক্ত টাকা নেওয়ার ব্যাপারে প্রেমিক মৌ’কে সাংবাদিক জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন -শাফিউল আমাকে ৫০ লক্ষ টাকা দিয়েছে এটা মিথ্যা কথা। তবে বিদেশে থাকা কালে সে বিভিন্ন সময় ৭ / ৮ লক্ষ টাকা দিয়েছে যা আমি এখনো শিকার করছি ভবিষ্যতেও করবো।
আমি বিবাহিত বলছি কিন্ত সে কখনোই বিশ্বাস করতো না। মৌ তার স্বামীর সংসার ঠিক রাখতে এসব করছে বলে জানাগেছে।
এবিষয়ে প্রবাসীর মামা আবু তালেব বলেন,পরিকল্পিতভাবে আমার মামাকে ডেকে নিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে । আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
সাঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাদশা আলম বলেন,প্রবাসী শাফিউল হকের দায়ের করা মামলায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন প্রেমিকা
সুরাইয়া আক্তার মৌ, তার স্বামী দিপু রানা ও ভাই নয়ন । তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা হাজতে পাঠানো হয়েছে।
প্রবাসী সুস্থ হলে আদালতের নির্দেশে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে ।

