
সৌভিক পোদ্দার-ঝিনাইদহ :
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চোর সন্দেহে দলবদ্ধ পিটুনিতে আহত সুজন মিয়া (২৮) নামের এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের।
শুক্রবার রাতে নিহতের বাবা কাশেম মালে ঝিনাইদহ সদর থানায় অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামি করে মামলা করে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পিটিয়ে হত্যার ভিডিও ভাইরাল হলেও মামলায় কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
সুজন মিয়া মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাগড়া গ্রামের কাশেম মালের ছেলে। তিনি শ্বশুরবাড়ি ঝিনাইদহের পাওয়ার হাউসপাড়ায় থাকতেন।
গত বুধবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের শিশু বিভাগের এক রোগীর স্বজনের ব্যাগ থেকে ৪০০ টাকা চুরি হয়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে সুজন মিয়াকে ধরে ওই রোগীর স্বজন ও উপস্থিত লোকজন কয়েক দফায় মারধর করে। এরপর তাঁকে আবার হাসপাতালের নিচে নামিয়ে টিকিট কাউন্টারের সামনে এনে বাঁশের লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে সুজন পাওয়ার হাউসপাড়ায় তাঁর শ্বশুরবাড়িতে গেলে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই দিন দুপুরে হাসপাতাল চত্বরে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে লোকজন সুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করান। শুক্রবার দুপুরে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এই ঘটনায় নিহতের বাবা ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।
তিনি বলেন, গতকাল মরদেহের ময়না তদন্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

