
মোঃ মাহবুবুর রহমান সোহেল-স্টাফ রিপোটার :
রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ (৩৫)–কে নির্মমভাবে হত্যা করেছে স্থানীয় যুবদল নেতা মইন ও তার সহযোগীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনের রাস্তায় সোহাগকে একা পেয়ে কয়েকজন মিলে তাকে পাথর দিয়ে বারবার আঘাত করে। পরে তাকে উলঙ্গ করে রাস্তায় ফেলে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বন্ধু মামুন জানান, “গত দুই-তিন মাস ধরে মইন নিয়মিতভাবে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল সোহাগের কাছ থেকে। সোহাগ রাজি না হওয়ায় প্রায় দুই মাস আগে দোকানে এসে প্রকাশ্যেই হুমকি দেয়—‘তোকে দেখে নেব।’” সন্ধ্যায় সেই হুমকিই বাস্তবে রূপ নেয়। মামুন আরও বলেন, “মইনের বিরুদ্ধে বহুদিন ধরেই অভিযোগ আছে। হাসপাতাল এলাকায় চাঁদাবাজি, দোকানদারদের ভয়ভীতি দেখানো, এমনকি হাসপাতালের কর্মচারী নিয়োগেও টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা সবাই জানে। অথচ কেউ কিছু বলে না, কারণ সে যুবদলের চকবাজার থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী।” স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের ঘটনাই প্রমাণ করে কেন অনেক সাধারণ মানুষ আজ নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারিয়েছে।
অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় তাদের আইনের ঊর্ধ্বে রাখে—এই বিশ্বাস থেকেই জনগণের একটি অংশ নির্বাচনে আগ্রহ হারিয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহত সোহাগের পরিবার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তবে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অপরাধীরা হয়তো পার পেয়ে যাবে। মতামত:
এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে—নিরাপত্তাহীনতা, রাজনৈতিক আশ্রয়ে অপরাধ, এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি কবে বন্ধ হবে? সমাজের এই দুরবস্থাই কি জনগণের ভোট বিমুখতার মূল কারণ নয়?

