
আবুসুফিয়ান, সিরাজগঞ্জ:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার ঐতিহ্যবাহী সলপের ঘোল ও ঘোল তৈরির দুধে ভেজালের সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত প্রধান দুই আসামির নাম বাদ দিয়ে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিলের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের দেওয়া এই অভিযোগপত্রে মামলার প্রধান আসামি ও সলপ ঘোল ঘরের স্বত্বাধিকারী আব্দুল মালেক ও আব্দুল খালেকের নাম বাদ পড়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
২০২৬ সালের মার্চ মাসে উল্লাপাড়ার সলপ এলাকার ঐতিহ্যবাহী ঘোল কারখানায় অভিযান চালিয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ঘোলে নিষিদ্ধ ঘন চিনি ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদন এবং দুধে ভেজালের প্রমাণ পায়।
একই মাসে পরপর দুই দফা অভিযানে সলপ ঘোল ঘরের মালিক আব্দুল মালেক ও আব্দুল খালেককে মোট এক লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে অধিদপ্তরের সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর কারখানার মালিক ও তাদের সহযোগীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, এরই জেরে স্থানীয় সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। হামলায় তার মাথায় আঘাত লাগে এবং বাম চোখের লেন্স নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তার চোখে কৃত্রিম লেন্স প্রতিস্থাপন করা হয়।
এ ঘটনায় সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে সলপ ঘোল ঘরের মালিক আব্দুল মালেক, আব্দুল খালেক এবং তাদের সহযোগী মাসুম, রাকিব ও রেজাউলের নাম উল্লেখ করে উল্লাপাড়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে সম্প্রতি তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তবে অভিযোগপত্রে এজাহারভুক্ত প্রধান দুই আসামি আব্দুল মালেক ও আব্দুল খালেককে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। শুধু মাসুম, রাকিব ও রেজাউলের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার বাদী সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ বলেন, “যে মালেক ও খালেকের ভেজাল ব্যবসার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় আমার ওপর হামলা হয়েছে, পুলিশ অদৃশ্য কোনো প্রভাব বা অনৈতিক সুবিধার কারণে সেই মূল হোতাদেরই মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। আমরা এই একপেশে চার্জশিট কোনোভাবেই মেনে নেব না।”
প্রধান আসামিদের বাদ দেওয়ার ঘটনায় সলপ ও উল্লাপাড়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষ্য, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় যদি প্রকৃত অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনা না হয়, তাহলে মাঠ পর্যায়ে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে।
সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ জানান, তারা এই চার্জশিটের বিরুদ্ধে আদালতে দ্রুত নারাজি পিটিশন দাখিল করবেন। পাশাপাশি মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য সিআইডি অথবা পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন।

