
মাসুম বিল্লাহ-খুলনা :
সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বনের ভেতরে নতুন কোনো দস্যু বাহিনীর উত্থান রোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদা তৎপর। এরই ধারাবাহিকতায়, ভুল পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আগ্রহী একদল বনদস্যু আত্মসমর্পণ করেছেন।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন বাহিনী প্রধান জাহাঙ্গীর শেখ (৪৫), মুজাহিদ গাজী (২৭), বিল্লাল শেখ (৩৫), জাহিদ হাসান (২৮), সুমন ঢালী (৩০), এরশাদ শিকারী (৪২), ওয়াহিদুজ্জামান (৩০), আইউব শেখ (৪২), রাফসান ঢালী (৩০), পারভেজ শেখ (২৭), কামরুল শেখ (২৫), জহুরুল গাজী (৩৮), সিরাজুল তরফদার (৩৮), আমিনুল ইসলাম (৪০), আসাদুল ইসলাম (৪২), বাবুল শেখ (৪৫), শাজাহান শেখ (৪২), হেলাল (৩৮)। তারা সকলেই খুলনা জেলার দাকোপ, কয়রা ও বটিয়াঘাটা থানার বাসিন্দা।
এছাড়া বাগেরহাট জেলার রামপাল, ফকিরহাট, কচুয়া, মোড়লগঞ্জ ও শরণখোলা এলাকার বাসিন্দা আকরাম শেখ (৪৫), নুরুল ইজারদার (৫০), হাসান শেখ (২৭), কামরুল শেখ (২৮), জিয়া শেখ (৩৮), কবির সুলতান (৫৫), কাইয়ুম জমাদ্দার (৪০) ও শরিফুল ইসলাম বয়াতি (২১) এবং পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার মোঃ জয়নাল আবেদীন (৩৮) আত্মসমর্পণ করেছেন।
এই আত্মসমর্পণের ফলে সুন্দরবনের পশুর নদী ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার জেলে ও বনজীবীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের আতঙ্ক কেটে গেছে। স্থানীয়রা জানান, এর ফলে জেলেরা এখন আর কোনো ভয় ছাড়াই সুন্দরবনে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন। জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মেজবাউল ইসলাম বলেন, “সুন্দরবনের সকল সক্রিয় বনদস্যুকে আমরা কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। আত্মসমর্পণকারীদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও জানান, চলতি বছরের ২১ মে সুমন বাহিনী এবং ৯ জুলাই জাহাঙ্গীর বাহিনীর দুই দফায় মোট ১০ জন জলদস্যু অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেছিল। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। সরকারের নির্দেশনা ও বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করাই এখন মূল লক্ষ্য।

