
মোঃ পারভেজ পটিয়া
বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের বর্তমান বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি সম্প্রসারিত এক আন্তর্জাতিক টকশো অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভয়েস অব হিউম্যান এন্ড জাস্টিস আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বেস্ট বাংলা গ্রুপের চেয়ারম্যান, অর্থনীতিবিদ ও ইসলামী ব্যাংকার মোহাম্মদ আবদুর রহিম খন্দকার।
আলোচনায় তিনি বলেন, বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের চিত্র বর্তমানে সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জের সমন্বয়। তৈরি পোশাক শিল্প, কৃষি, পর্যটন, তথ্যপ্রযুক্তি এবং প্রবাসী শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়লেও শিক্ষিত বেকারত্ব, দক্ষতার ঘাটতি এবং পর্যাপ্ত শিল্পায়নের অভাব এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান চাকরির বাজারে শুধু একাডেমিক ডিগ্রি নয়, যোগাযোগ দক্ষতা, তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞান, ইংরেজি ভাষায় পারদর্শিতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং নেতৃত্বগুণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা অ্যানালাইসিস, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মতো আধুনিক দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানান তিনি।
মোহাম্মদ আবদুর রহিম খন্দকার আরও বলেন, ফ্রিল্যান্সিং, রিমোট ওয়ার্ক, ই-কমার্স, ফিনটেক ও ডিজিটাল ব্যাংকিং বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খাত। একই সঙ্গে তরুণদের চাকরি খোঁজার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দক্ষতা, ভাষাজ্ঞান এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপ ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব।
নারী কর্মসংস্থান বিষয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নারীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন ব্যবসা, কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও অনলাইন শিক্ষার মাধ্যমে নারীরা ঘরে বসেই আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন।
তিনি আগামী ১০ বছরে তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষিভিত্তিক শিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস ও ফিনটেক খাতকে বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় কর্মসংস্থানমুখী খাত হিসেবে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ‘আধুনিক বাংলাদেশ’-এর লেখক ও গবেষক হুসাইন আহমাদ জীবন (পিএইচডি ইন ল’)। অনুষ্ঠানে বক্তারা দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিল্প সম্প্রসারণ এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টি কার্যক্রমকে দেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।

