
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণ বাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নের মেরাতুলি গ্রামে ডাকাতির প্রস্তুতি নেওয়ার সময় দুই ডাকাতকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। গতকাল ৩০ মে (শনিবার) রাতে মেরাতুলি মধ্যপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ডাকাতদের হামলায় নাজমা বেগম (৩০) নামের এক গৃহবধূ গুরুতর আহত হয়েছেন। আটককৃত আসামিদের আজ রবিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
আটককৃত ডাকাতরা হলো— উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার ছেলে মোঃ মোর্শিদ আলম (২৬) এবং বড়াইল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড মেরাতুলি গ্রামের আব্দুল হাকিম মিয়ার ছেলে রহমত আলী (৫৭)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে মেরাতুলি মধ্যপাড়া গ্রামের সাইদুর মিয়ার বাড়িতে একদল ডাকাত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে হানা দেয়। টের পেয়ে সাইদুর মিয়ার স্ত্রী নাজমা বেগম (৩০) বাধা দিতে গেলে ডাকাতরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে।
এ সময় নাজমা বেগমের চিৎকার ও ঘরের লোকজনের শোরগোলে আশেপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন। গ্রামবাসীরা চারদিক থেকে ঘেরাও করে ধাওয়া দিয়ে ঘটনাস্থল থেকেই মোর্শিদ ও রহমত আলী নামের ওই দুই ডাকাতকে হাতেনাতে আটকে ফেলেন। পরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ডাকাতদের নিজেদের হেফাজতে নেয়।
গুরুতর আহত গৃহবধূ নাজমা বেগমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এলাকাবাসী জানান, আটককৃতদের মধ্যে রহমত আলী স্থানীয় মেরাতুলি গ্রামেরই বাসিন্দা। স্থানীয় কিছু অপরাধচক্রের সাথে হাত মিলিয়ে সে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
নবীনগর থানা পুলিশ জানায়, আটককৃত ডাকাতদের বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত ডাকাতি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ রবিবার দুপুরে আসামিদের ব্রাহ্মণ বাড়িয়া জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য সহযোগীদের সনাক্ত করে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

