
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
টানা বর্ষণ আর উজানের ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হাওর এলাকায় প্রায় ১ হাজার বিঘা (প্রায় ১৫০ হেক্টর) জমির বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আধা-পাকা ও পাকা ধান হঠাৎ তলিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন কয়েক শ কৃষক। তবে বুধবার বৃষ্টি না হওয়ায় পানি নেমে যাওয়ার অপেক্ষায় ধান কাটার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন তারা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নাসিরনগরে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে হাওরে আবাদ হয়েছে ১২ হাজার হেক্টর। হাওরের ৬০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হলেও বাকি ৪০ শতাংশ ধান (ব্রি ধান ২৯, ব্রি-১০০, ব্রি-৯২, ব্রি-১০২, ব্রি-১০৮ ও ব্রি-৫৮) এখনো মাঠে রয়েছে। গত রবিবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে লঙ্গন, বেমালিয়া, মেঘনা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের ১ হাজার বিঘা জমি নিমজ্জিত হয়।
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন এলাকায় হাওরের ওপর দিয়ে নির্মিত পাকা সড়কের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই নাসিরনগরের নিচু জমিগুলো দ্রুত প্লাবিত হয়, আবার কখনো দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
গোয়ালনগরের বর্গা চাষি রহমান ভূইয়া জানান, ১৫ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে তিন বিঘা জমি বর্গা নিয়েছিলেন তিনি। এখন পুরো জমিই পানির নিচে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “অতিরিক্ত বৃষ্টিতে সব তলাইয়া গেছে, এহন আমি কী করুম ভাইবা পাইতাছি না।”
আরেক কৃষক মো. হাসান মিয়া জানান, এই সময়ে সাধারণত হাওরে পানি আসার কথা নয়। আগাম কোনো প্রস্তুতি না থাকায় কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। পানি দ্রুত না নামলে ধান পঁচে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। তবে পানি কমতে শুরু করলেই ধান কাটার জন্য তারা শ্রমিক ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রেখেছেন।
নাসিরনগর উপজেলা কৃষি অফিসার ইমরান হোসাইন বলেন, “ভারি বৃষ্টিতে ১ হাজার বিঘা ধান তলিয়ে আছে। বুধবার বৃষ্টি কম হওয়ায় আমরা আশা করছি দু-এক দিনের মধ্যে পানি নেমে যাবে। পানি নামার পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র বোঝা যাবে। তবে দ্রুত পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কম হতে পারে। আমরা কৃষকদের পানি নামার সাথে সাথেই ধান কাটার পরামর্শ দিয়েছি।”

