
বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে প্রবাসীদের অবদান অনস্বীকার্য। এই দীর্ঘ সংগ্রামের পথে যারা নীরবে, নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন, তাদের মধ্যে এস এম মিল্টন সরকার একটি উল্লেখযোগ্য নাম।
দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে প্রবাসে অবস্থান করে তিনি দলের আদর্শ ও নীতিকে ধারণ করে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার এবং স্বাভাবিক নাগরিক অধিকার থেকে দূরে থেকেও তিনি দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-পীড়ন ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তিনি টানা ১২ বছর দেশে ফিরতে পারেননি—যা একজন রাজনৈতিক কর্মীর জীবনে এক কঠিন বাস্তবতা এবং বড় ধরনের ত্যাগ।
ইউরোপের মাটিতে বসেও তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনকে বেগবান করেছেন। বিভিন্ন কর্মসূচি, মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ সমাবেশে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। বিশেষ করে ইউরোপ পার্লামেন্টের সামনে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে গ্রেফতার হওয়া তার আন্দোলনের প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি এবং সাহসিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এস এম মিল্টন সরকার শুধু একজন সাধারণ কর্মী নন; তিনি যুবদলের সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে। তার নেতৃত্ব, সংগঠনিক দক্ষতা এবং ত্যাগ প্রবাসে দলের অবস্থান সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তার এই দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সংগ্রাম কখনোই সহজ নয়, কিন্তু আদর্শের প্রতি অটল থাকলে ত্যাগ স্বীকার করেও এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। এস এম মিল্টন সরকারের জীবন ও সংগ্রাম নতুন প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
সময়ের দাবি হলো, এমন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা এবং তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা। তৃণমূলের নেতা কর্মীদের দাবি আগামীতে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে যেন এস এম মিল্টন সরকার মতো ত্যাগী নেতাকর্মীদের মুল্যায়ণ করা হয় ।দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্মাণে তাদের ভূমিকা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।

