
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
রাজনীতিতে আদর্শিক ভিন্নতা থাকলেও পারিবারিক বন্ধন যে অটুট থাকতে পারে, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে। উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দা নাখলু আক্তারের মেয়ে নাদিয়া পাঠান পাপন বিএনপি থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন পেয়েছেন।
মেয়ের এই সাফল্যে মা সৈয়দা নাখলু আক্তার আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, রাজনীতি নিয়ে মা-মেয়ের মধ্যে কখনো কোনো মতানৈক্য হয়নি। শ্বশুরবাড়িতে থাকার সুবাদে নাদিয়া মূলত ঢাকাতেই তাঁর রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
নাদিয়া পাঠান পাপন বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ছাত্রজীবন থেকেই:
২০০০ সাল: বিজয়নগরের চান্দুরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি।
২০০৪ সাল: বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে পড়ার সময় সক্রিয়ভাবে বিএনপির মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত হন।
আন্দোলন ও সংগ্রাম: ২০১৩ সালে দলীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের হামলা এবং ২০১৫ সালে সিটি নির্বাচনের সময় ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন তিনি। ২০১৭ সালে কারাবন্দী নেত্রী খালেদা জিয়ার আদালত থেকে ফেরার পথে পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙতে গিয়েও তিনি লাঠিচার্জের শিকার হয়েছিলেন।
জুলাই অভ্যুত্থান: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তিনি সম্মুখ সারিতে থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
মায়ের অবস্থান ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
নাদিয়া পাঠানের মা সৈয়দা নাখলু আক্তার আওয়ামী লীগের রাজনীতির পরিচিত মুখ। তিনি জেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি এবং বিজয়নগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মেয়ের মনোনয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
”আমি আরও আগেই রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি। মেয়ে এমপি হওয়ায় মা হিসেবে আমি আনন্দিত। রাজনীতি যার যার ব্যক্তিগত বিষয়, আমাদের মধ্যে এ নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব নেই।”
এদিকে, বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মৃধা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাদিয়াকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই।” বিজয়নগরের সন্তান হিসেবে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি এই অর্জনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য, মনোনয়ন পাওয়ার পর নাদিয়া পাঠান পাপনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মা-মেয়ের এই ভিন্ন মেরুর রাজনৈতিক অবস্থান এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

