
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ বালু উত্তোলন ও ফসলি জমি ধ্বংসের ঘটনায় অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। স্থানীয় কৃষকদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রভাবশালী চক্রের থাবায় বিপন্ন কৃষি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরলাপাং এলাকার বিস্তীর্ণ তিন ফসলি জমিতে ড্রেজার বসিয়ে দিনের পর দিন বালু উত্তোলন করছিল একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অনেক কৃষকের আবাদি জমি বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্রটি এতটাই প্রভাবশালী যে, সাধারণ কৃষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে এতদিন মুখ বন্ধ রাখা হয়েছিল। ফলে অনেক কৃষক তাদের একমাত্র সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
প্রশাসনের দায়ের করা মামলায় নাম উল্লেখ করা ১১ আসামি হলেন—
১. পায়েল মোক্তার (৪৫), ২. রিপন মিয়া (৪৮), ৩. মাসুদ মিয়া (৪৫), ৪. ঈমান মিয়া (৪০), ৫. নয়ন মিয়া (৩৫), ৬. জাহাঙ্গীর (৪০), ৭. রিজন মিয়া (২৫), ৮. রুবেল (৩০), ৯. নাজিমুদ্দিন (৪০), ১০. ফারুক মিয়া (৩৫) এবং ১১. ইবি মিয়া (৩০)। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই চক্রটির শিকড় অনেক গভীরে। আসামিদের মধ্যে কয়েকজন প্রতিবেশী নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার বাসিন্দা। এতে এটি স্পষ্ট যে, স্থানীয় ও বাইরের জেলা মিলে একটি বিশাল ‘আন্তঃজেলা বালু সিন্ডিকেট’ গড়ে উঠেছে। প্রশাসন এখন এই চক্রের পেছনে থাকা গডফাদার বা পৃষ্ঠপোষকদের খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে।
দেরিতে হলেও মামলা হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও প্রশাসনের দীর্ঘদিনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
তাদের অভিযোগ, ড্রেজার বাণিজ্যের খবর প্রশাসনকে অনেক আগেই জানানো হয়েছিল। কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেরি হওয়ার সুযোগে ড্রেজার খেকোরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল এবং ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি: কেবল কাগজ নয়, শাস্তি চাই
চরলাপাং গ্রামের একজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বলেন,
> “মামলা হয়েছে শুনে আমরা খুশি, কিন্তু আমাদের ভয় কাটেনি। আমরা চাই শুধু কাগজে-কলমে মামলা নয়, বাস্তবে ড্রেজার চিরতরে বন্ধ হোক এবং এই চক্রের সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।”
নবীনগর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্ত চলছে এবং অবৈধ ড্রেজার সমূলে উৎপাটন করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এখন দেখার বিষয়, এই মামলার মাধ্যমে নবীনগরজুড়ে সক্রিয় অন্যান্য অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের দমানো সম্ভব হয় কি না।

