
জুলফিকার আলী জুয়েল :
আগুনের আগের দিন গোডাউনে কিছু মাল সরানো হয়েছিল, সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে মালিক।
গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকার বাবুর্চী মোড়ে বুধবার (০৫ নভেম্বর ২০২৫) সকাল ৬টা ৩৪ মিনিটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের কয়েকটি ঝুটের গোডাউন । খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ চার ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, সকাল ৬টা ৪৮ মিনিটে আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয় এবং সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। নেতৃত্ব দেন কোনাবাড়ী মর্ডান ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোঃ ইকবাল হাসান।
অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। তবে কোনো প্রাণহানি বা আহতের ঘটনা ঘটেনি। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, লগানো আগুনের কারণে ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগুনের সূত্রপাত বাবুর্চী মোড় এলাকায় মোঃ নূর সাফি মালিকানাধীন একটি গোডাউন থেকে।
বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের আগের ৪ নভেম্বর বিকেলে গোডাউন থেকে কিছু মালামাল সরানো হয়েছিল।
অগ্নিকাণ্ডের দিন সকালেও সিসিটিভি ফুটেজে নূর সাফিকে তার গোডাউনে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। পরে আগুনের সূত্রপাত হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে তার উপস্থিতি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ মিলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্তে দেখা হচ্ছে, আগুনের প্রকৃত উৎস কী, বৈদ্যুতিক সমস্যা বা অন্য কোনো কারণ আছে কি না।
ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোঃ ইকবাল হাসান জানান
আমরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছি। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা আতঙ্কিত। তারা জানিয়েছেন, সময়মতো ফায়ার সার্ভিস না এলে ক্ষয়ক্ষতি আরও বড় হতে পারত। কিছু ব্যবসায়ী উল্লেখ করেছেন, বাজার এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও মালিকের সম্পৃক্ততা যাচাইয়ে কাজ করছে। এই তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে ঘটনাটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

