
মোঃ আবুল কালাম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ৯নং শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম আর মজিবের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যানের প্রতি পুনরায় আস্থা প্রকাশ করেছেন অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষরকারী নয়জন ইউপি সদস্য।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে। আবেদনটির অনুলিপি চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপপরিচালকের (ডিডিএলজি) কাছে পাঠানো হয়েছে।
ইউপি সদস্যদের আবেদনে বলা হয়, গত ১৭ জুন আর্থিক অনিয়ম ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলে চেয়ারম্যান এম আর মজিবের বিরুদ্ধে নয়জন সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য অনাস্থা প্রস্তাব দেন। পরে স্থানীয় অভিভাবক ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতা বৈঠক হয়।
বৈঠকে ইউনিয়ন পরিষদের আয়-ব্যয় ও সরকারি বরাদ্দের হিসাব পর্যালোচনা করা হয়। সদস্যদের দাবি, পর্যালোচনার পর তাঁরা বুঝতে পারেন, তথ্যের ঘাটতি ও ভুল বোঝাবুঝি থেকেই অনিয়মের অভিযোগের সৃষ্টি হয়েছিল। ভূমি হস্তান্তর করের ১ শতাংশ অর্থে নেওয়া উন্নয়নমূলক কাজও বাস্তবে দৃশ্যমান রয়েছে বলে তাঁরা আবেদনে উল্লেখ করেন।
এ অবস্থায় ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং জনগণের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার স্বার্থে আগের অনাস্থা প্রস্তাব প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন সদস্যরা। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান এম আর মজিবের প্রতি পুনরায় পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন তাঁরা।
অনাস্থা প্রস্তাব প্রত্যাহারের আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন ১ নং ওয়ার্ডের ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, ২ নং ওয়ার্ডের লিটন মিয়া, ৪ নং ওয়ার্ডের সোহেল মিয়া, ৫ নং ওয়ার্ডের আহসান হাবীব, ৬ নং ওয়ার্ডের হুমায়ুন কবির শাহীন, ৭ নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ বশির, ৮ নং ওয়ার্ডের ইকবাল ইসলাম, ৯ নং ওয়ার্ডের মাসুদ মিয়া এবং সংরক্ষিত ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য রোকসানা পারভীন।
ফলে চেয়ারম্যানকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনাস্থা পরিস্থিতির অবসান ঘটেছে এবং ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার বিষয়ে সদস্যরা একমত হয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

