
সাঈদ ইবনে হানিফ :
যে কৃতিত্ব চমকে দিয়েছে শিক্ষক ও সহপাঠীদের। কারণ যাদের কে নিয়ে তারা যেমনটা চিন্তা করেনি আজ তারাই হয়েছে বিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ। এযেন চমকে উঠার কান্ড। শুধু কি তাই পাড়ার লোকেরা ও ভাবে পারেনি তারা এমন কান্ড ঘটাবে। বলছি, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার মাহমুদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমজ দুই বোনের কথা। জন্ম থেকেই তাদের পাশাপাশি পথচলা। একই ঘরে বেড়ে ওঠা, একই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা, একসঙ্গে পরীক্ষার প্রস্তুতি—শেষ পর্যন্ত সাফল্যের মঞ্চেও মিলল দুই বোনের দারুণ অর্জন। এবারে অনুষ্ঠিত এস এসসি পরিক্ষায় উপজেলার মাহমুদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে অংশ নিয়ে জমজ দুই বোন অঙ্কিতা বিশ্বাস ও অনুসূয়া বিশ্বাস দুজনেই জিপিএ-৫ (এ+) অর্জন করেছে। তাদের এই সাফল্যে পরিবার, বিদ্যালয় ও স্থানীয়দের মধ্যে যেন আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে।
অঙ্কিতা ও অনুসূয়া যশোর সদর উপজেলার কৈখালী গ্রামের বাসিন্দা। সদ্য ফলাফল ঘোষিত এস এসসি পরিক্ষায় যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে তারা বাঘারপাড়ার মাহমুদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর একই সঙ্গে দুই বোনের জিপিএ-৫ পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার জুড়ে বয়ে যায় আনন্দের বন্যা। পাশাপাশি বিষয়টি এলাকায় কৌতূহল ও প্রশংসার, এবং এলাকার মানুষের মধ্যে মুখোরোচক গল্পের জন্ম দেয়।
দুই বোনের বাবা অনুকুল চন্দ্র বিশ্বাস এবং মা অঞ্জলী রাণী বলেন, ছোটবেলা থেকেই তারা পাশাপাশি থেকে পড়াশোনা করে আসছে। একজন পড়াশোনায় মনোযোগী হলে অন্যজনও উৎসাহিত হতো। এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময়ও তারা একে অপরের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। পরস্পরের পড়া যাচাই, কঠিন বিষয় বুঝে নেওয়া এবং নিয়মিত অনুশীলনের মধ্য দিয়ে তারা পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। ফলে একই সঙ্গে জিপিএ-৫ অর্জন তাদের দীর্ঘদিনের অধ্যবসায় ও পারস্পরিক সহযোগিতারই প্রতিফলন।
দুই মেয়ের এমন সাফল্যে আনন্দে আত্মহারা বাবা-মা। বাবা অনুকুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “দুই মেয়ের ফলাফলে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা চাই, তারা ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করুক।”
অন্যদিকে
অঙ্কিতা ও অনুসূয়ার সাফল্যে মাহমুদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, দুই বোনই নিয়মিত পড়াশোনা করত এবং এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময়ও তারা যথেষ্ট মনোযোগী ছিল। তাদের এই ফলাফল অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
জমজ দুই বোনের একই সঙ্গে জিপিএ-৫ অর্জনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল ও প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলেন, দুই বোনের এই কৃতিত্ব বিদ্যালয় এবং শিক্ষক মহলের মূখ উজ্জ্বলের পাশাপাশি এলাকাবাসীকে আনন্দিত করেছে। তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতই এলাকাবাসির কাম্য।

