
ডেভিড সাহা,
লামায় মামলা করে ৩ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ, ‘মামলা-আপস-অর্থ আদায়’ চক্রের দাবি ব্যবসায়ীদের
বান্দরবানের লামায় বন বিভাগের দুই কর্মকর্তাসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকে ঘিরে উঠেছে নানা প্রশ্ন। মামলার বাদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ—মামলা দায়েরের পর আসামিদের সঙ্গে আপসের প্রস্তাব দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছে। এক ব্যবসায়ীর দাবি, তার কাছে তিন লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে মামলার বাদী উসমান গনি দাবি করেছেন, তাকে পৃথক দুটি ঘটনায় মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
মামলায় লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা কেএম কবির উদ্দিন, ব্যবসায়ী রেজাউল করিম বাবলু ও রিকশাচালক রশিদ আহাম্মদকে আসামি করা হয়েছে।
আসামি ব্যবসায়ী রেজাউল করিম বাবলুর অভিযোগ, “মিথ্যা ও মনগড়া অভিযোগে মামলা দায়েরের পর উসমান গনি আমার কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করে আপসের প্রস্তাব দেন। আমি তাতে রাজি হইনি।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এর আগেও একই ধরনের মামলা ও অভিযোগের পর আপসের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততা থাকলে তা প্রকাশ্যে আনা প্রয়োজন।
তবে বাদী উসমান গনির বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
এদিকে মামলার ঘটনাস্থল ও সাক্ষ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। বন কর্মকর্তাদের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
লামা বন বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা কেএম কবির উদ্দিন বলেন, “উসমান গনির সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ ছিল না। মামলায় যে ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে, তা সত্য নয়।”
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “উসমান গনির সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ নেই। আদালতে আনা অভিযোগ সত্য নয়।”
এ ঘটনায় প্রকৃত সত্য উদঘাটনে মামলার নথি, চিকিৎসা প্রতিবেদন, ঘটনাস্থল, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

