রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চূড়ান্ত আদেশ এবং নকশা অনুমোদন কমিটির আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বহুতল ভবনের অবৈধ ক্যান্টিলিভার (ঝুলন্ত অংশ) নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বারবার নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও নির্মাণাধীন ভবনের অবৈধ অংশ অপসারণ না করায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রতিবেশী প্লট মালিকরা। তারা অবিলম্বে এই অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলার জন্য রাজউকের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
রাজধানীর কাফরুল থানাধীন পূর্ব শেওড়াপাড়া এলাকার হোল্ডিং নং-৯৪৮ এ নির্মিত একটি ভবনের অবৈধ ক্যান্টিলিভার অপসারণের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী প্লট মালিকরা। তাদের দাবি, আপিলের সিদ্ধান্ত এবং রাজউকের একাধিক নোটিশ থাকা সত্ত্বেও এখনো অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়নি, ফলে দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, মো. ফজলুর রহমান গং রাজউক অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) একাধিকবার নোটিশ দিয়ে ভবনের অবৈধ ক্যান্টিলিভার অপসারণের নির্দেশ প্রদান করেছে বলেও দাবি করা হয়।
এছাড়া আপিলের সিদ্ধান্তেও বিষয়টি বাস্তবায়নের নির্দেশ রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেন। তবে এসব নির্দেশনা এখনো কার্যকর হয়নি বলে তাদের অভিযোগ।
অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, ১৪ মার্চ ১৯৮৫ তারিখের ৫৯০ নম্বর দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, জমির পূর্ব পাশ দিয়ে পশ্চিম পর্যন্ত ৮ ফুট প্রশস্ত একটি রাস্তা উভয় পক্ষের চলাচলের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। দলিলে আব্দুল খালেক চৌধুরী, মো. শামসুল আলম চৌধুরী, মো. ফজলুর রহমান চৌধুরী, মো. খলিলুর রহমান চৌধুরী ও মো. ফয়জুর রহমান চৌধুরীর নাম উল্লেখ রয়েছে।
প্লট মালিকদের অভিযোগ, দলিলের শর্ত অমান্য করে ওই রাস্তার ওপর অবৈধভাবে ক্যান্টিলিভার নির্মাণ করায় চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে রাস্তা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সংশ্লিষ্ট প্লট মালিকরা রাজউক থেকে ভবনের নকশা অনুমোদন (প্ল্যান) পেতে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় পড়ছেন।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত অবৈধ ক্যান্টিলিভার অপসারণ এবং আদালত ও রাজউকের নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে রাজউক কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. ফজলুর রহমান গং-এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
এ বিষয়ে রাজউকের সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অথরাইজড অফিসারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আইন অমান্যকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দ্রুতই সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ক্যান্টিলিভারটি অপসারণ করা হবে।