
সাকিব হাসান নাইম ,
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার রাণীগঞ্জ সবজি বাজারে হঠাৎ করেই অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারের চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। আগে যে টাকায় একটি পরিবারের কয়েক দিনের সবজি কেনা যেত, এখন সেই ৫০০ টাকায় প্রয়োজনীয় সবজি কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ও বরবটি ৮০ টাকা, ঢেঁড়স, পটল ও শসা ৬০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, কাঁচামরিচ ৩২০ টাকা, মিষ্টি লাউ ৫০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ টাকা, আদা ১৬০ টাকা এবং রসুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া একটি লকুচ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। অথচ মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও কাঁচামরিচের দাম ছিল প্রায় ৩০ টাকা কেজি। অন্যান্য সবজির দামও ছিল অনেকটাই নাগালের মধ্যে।
দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক ক্রেতাই প্রয়োজনের তুলনায় কম সবজি কিনে বাড়ি ফিরছেন। সংসারের ব্যয় সামাল দিতে অনেকে বাজারের তালিকা ছোট করতে বাধ্য হচ্ছেন।
রিকশাচালক আইনুল মিয়া বলেন, “আগে ৫০০ টাকায় ব্যাগভর্তি সবজি নিয়ে বাড়ি ফিরতাম। এখন কয়েক কেজি সবজি কিনতেই টাকা শেষ হয়ে যায়। চাল, ডাল, তেল, ডিমের খরচের সঙ্গে সবজির এই দাম আমাদের মতো মানুষের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি চাকরিজীবী বলেন, “দুই কেজি আলু, এক কেজি বেগুন, ২৫০ গ্রাম কাঁচামরিচ, এক কেজি পেঁয়াজ, দুই কেজি মিষ্টি আলু ও এক কেজি পটল কিনতেই ৫০০ টাকা শেষ হয়ে গেছে। এখন এই টাকায় দুই দিনের বাজারও করা যায় না।”
সবজি বিক্রেতা সজিব মিয়া জানান, পাইকারি বাজারেই দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। তিনি বলেন, “দুই সপ্তাহ আগে যে পরিমাণ সবজি ১০ হাজার টাকায় কিনতাম, এখন একই পরিমাণ কিনতে প্রায় ২৫ হাজার টাকা লাগছে। বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হবে।”
ব্যবসায়ীদের দাবি, টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় সবজির উৎপাদন কমে গেছে। পাশাপাশি সরবরাহে বিঘ্ন এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে দাম বেড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে দাম কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করছেন তারা।
অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে নিয়মিত তদারকির অভাব এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অতিরিক্ত মুনাফার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। তারা বাজার মনিটরিং জোরদার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সীমিত আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে। অনেকেই পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার কেউ প্রয়োজনের তুলনায় কম কিনেই সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন। ফলে ঘোড়াঘাটের রাণীগঞ্জ সবজি বাজারে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—কবে কমবে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম?

