
মোঃ সানোয়ার হোসেন,
পূর্বধলা(নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : নেত্রকোণার পূর্বধলায় ছেলের বিয়ের আনন্দ নিমেষেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। বরযাত্রী যখন কনের বাড়িতে, ঠিক তখনই বরের বাড়িতে হাজির হন প্রেমিকা দাবি করা এক নারী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিয়ে ভেঙে গেলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন বরের বাবা মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া (৪৫)।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পানিশানা পূর্বপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত সুরুজ মিয়া ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে সুরুজ মিয়ার বড় ছেলে হেলাল মিয়ার (২২) বিয়ে উপলক্ষে বরযাত্রী পার্শ্ববর্তী হিরণ্যপট্টি গ্রামে কনের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়। বরযাত্রী কনের বাড়িতে পৌঁছানোর পরপরই বিকেল ৩টার দিকে বরের বাড়িতে দুই নারী উপস্থিত হন। তাদের একজন কুড়িগ্রামের পচাকাটা থানার কবিরাজপাড়া এলাকার মোছা. জান্নাতী খাতুন (২৮)। জান্নাতী দাবি করেন, হেলালের সঙ্গে তার ১০-১১ মাসের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং আগের দিন তাদের বিয়ে হওয়ার কথা থাকলেও হেলাল মোবাইলফোন বন্ধ করে পালিয়ে আসে।
স্থানীয়রা আরও জানায়, এ ঘটনা জানাজানি হলে কনেপক্ষ বিয়ে বাতিল করে। পরে বরপক্ষ কনেপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আসে। বিয়ে পণ্ড হয়ে যাওয়া ও লোকলজ্জার ভয়ে মানসিক আঘাত সহ্য করতে না পেরে ওই দিন রাত ১১টার দিকে বাড়ির পাশের একটি আমগাছে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেন সুরুজ মিয়া। পরে পরিবার ও স্থানীয়রা ঝুলন্ত অবস্থা থেকে তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।

