
মাসুম বিল্লাহ
আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে খুলনা বিভাগীয় কমিশনার অডিটোরিয়ামে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভায় তিনি শিক্ষা খাতের নানা জটিলতা নিরসনে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
দেশে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষকের সংকট রয়েছে। গত ২০ বছরে যারা বিশেষ সুবিধায় গ্রাম থেকে শহরে এসেছেন, তাদের তালিকা করা হচ্ছে। গ্রামীণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংকট দূর করতে এসব শিক্ষকদের পুনরায় গ্রামে ফিরিয়ে পাঠানো হবে।
দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়োগের ভাইভা প্রক্রিয়া আগামী ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করার আশা প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী।
আগামী জুলাই মাস থেকে সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস প্রদান ও মিড ডে মিল কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে। খাবারে অনিয়ম বা নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোনসহ অননুমোদিত সামগ্রী নিষিদ্ধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া প্রশ্নপত্র বা গুজব ছড়ালে তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও এই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২২ সাল থেকে অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের বকেয়া কল্যাণ ও অবসর ভাতা দ্রুত পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মাদরাসা শিক্ষার্থীদের পাসের হার প্রসঙ্গে শিক্ষকদের উদ্দেশে মন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, “মাদরাসায় ভালো ফলাফল সম্ভব হলে সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেন পাসের হার কম?” খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি রোধে তদারকি বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ফারুখে আযম মু. আবদুস ছালামের সভাপতিত্বে সভায় খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুন, রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনাসহ শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

