
শিরোনাম: যাদের বিরুদ্ধে কথা, আয় আবার তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকেই”—এক কঠিন বাস্তবতা
আমরা প্রায়ই দেখি—ইজরায়েল ও আমেরিকার বিরুদ্ধে টকশো, ওয়াজ মাহফিল, রাজনৈতিক আলোচনা, ফেসবুক লাইভ কিংবা ইউটিউব ভিডিওতে তীব্র সমালোচনা করা হয়। বক্তারা আবেগ দিয়ে কথা বলেন, দর্শকরাও শেয়ার-কমেন্টে ঝড় তোলেন। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন খুব কম মানুষই ভাবেন—
এই ভিডিও থেকে যে ডলার আয় হয়, সেই ডলার আসে কোথা থেকে?
বাস্তবতা হলো, বিশ্বের সবচেয়ে বড় সোশ্যাল মিডিয়া ও ভিডিও প্ল্যাটফর্মগুলোর বেশিরভাগই পশ্চিমা প্রযুক্তি কোম্পানির মালিকানাধীন। যেমন: Facebook (Meta)�, YouTube (Google)�, Instagram� ইত্যাদি।
এই প্ল্যাটফর্মগুলো বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আয় করে, তারপর কনটেন্ট নির্মাতাদের সেই আয়ের একটি অংশ দেয়। অর্থাৎ আপনি যে ভিডিওতে বক্তব্য দিচ্ছেন, তার মাঝখানে যে বিজ্ঞাপন চলছে—সেখান থেকেই আপনার ডলার আয় হচ্ছে।
তাহলে বিষয়টি কি ভণ্ডামি?
শুধু এভাবে দেখলে ভুল হবে।
বিষয়টি আসলে তিনভাবে দেখা যায়
১. প্রযুক্তির ব্যবহার বনাম রাজনৈতিক অবস্থান
কেউ কোনো দেশের সরকারের নীতির সমালোচনা করতেই পারেন। কিন্তু একই সাথে সেই দেশের তৈরি প্রযুক্তি ব্যবহার করাও বাস্তবতার অংশ। আজকের পৃথিবী এমনভাবে সংযুক্ত যে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে থাকা প্রায় অসম্ভব।
২. আবেগ নয়, বিকল্প তৈরি জরুরি
শুধু মাইক ফাটিয়ে চিৎকার করলে পরিবর্তন আসে না। যদি সত্যিই কেউ পশ্চিমা প্রভাব কমাতে চান, তাহলে প্রয়োজন—
নিজস্ব প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম,
শক্তিশালী অর্থনীতি,
গবেষণা ও উদ্ভাবন,
মানসম্মত শিক্ষা,
এবং দক্ষ মিডিয়া ব্যবস্থা।
কারণ পৃথিবীতে সম্মান পেতে হলে শুধু প্রতিবাদ নয়, সক্ষমতাও দেখাতে হয়।
৩. সোশ্যাল মিডিয়া এখন ব্যবসাও
অনেকেই আদর্শিক বক্তব্য দিলেও, বাস্তবে সেটি তাদের পেশা বা আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। ফলে কখনো কখনো আবেগ, ধর্ম, রাজনীতি—সবই “ভিউ” ও “মনিটাইজেশন”-এর অংশ হয়ে যায়। এ কারণেই কিছু মানুষ মনে করেন, প্রতিবাদের পাশাপাশি অর্থ উপার্জনের হিসাবও সেখানে কাজ করে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন
আমরা কি শুধু সমালোচনা করছি, নাকি নিজেদের সমাজকে শক্তিশালী করার কাজও করছি?
কারণ—
দুর্নীতি কমানো,
শিক্ষার মান বাড়ানো,
প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাওয়া,
উৎপাদনশীল অর্থনীতি গড়া—
এসব ছাড়া শুধু বক্তৃতা দিয়ে কোনো জাতি শক্তিশালী হয় না।
উপসংহার
ইজরায়েল বা আমেরিকার নীতির সমালোচনা করা গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু সেই সমালোচনা যদি কেবল আবেগ, ভাইরাল কনটেন্ট ও ডলার আয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সেটি আত্মসমালোচনারও বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
শক্তিশালী হতে হলে শুধু “বিরোধিতা” নয়, নিজেদের সক্ষমতা গড়াও জরুরি।

