
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলোর একটি হলো পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। জাতীয় উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্পায়নের ভবিষ্যৎকে সামনে রেখে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহলে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে প্রকল্পের ব্যয়, কেনাকাটা, আবাসন নির্মাণ ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে দেশে-বিদেশে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের জবাব দিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটম (Rosatom)। �
dhakapost.com +1
রোসাটম এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে দুর্নীতির যেসব অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে, তার অনেকগুলোই “ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর”। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনেই প্রকল্পের নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রতিটি ধাপ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও আর্থিক তদারকির আওতায় রয়েছে। �
dhakapost.com +1
রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়, রূপপুর প্রকল্পে ব্যবহৃত প্রযুক্তি অত্যাধুনিক VVER-1200 রিয়েক্টরভিত্তিক, যা বিশ্বের নতুন প্রজন্মের নিরাপদ পারমাণবিক প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্ত। একই ধরনের প্রকল্প তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশেও বাস্তবায়ন করছে রোসাটম। তাদের মতে, প্রকল্পের ব্যয়কে পুরোনো প্রযুক্তির অন্য দেশের পারমাণবিক কেন্দ্রের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা সঠিক নয়। �
Reddit +1
এদিকে বাংলাদেশে রূপপুর প্রকল্প ঘিরে বেশ কিছু অভিযোগ ইতোমধ্যে তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে। আবাসন প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয়, আসবাবপত্র ক্রয়, নিয়োগে অনিয়ম ও প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দুদক এবং আদালতে অনুসন্ধান ও শুনানির খবর প্রকাশিত হয়েছে। �
The Business Standard +3
বিশ্লেষকদের মতে, রূপপুরের মতো একটি কৌশলগত প্রকল্পকে ঘিরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্ক থাকতেই পারে। তবে প্রকল্পটির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি ভিত্তিহীন প্রচারণা থেকেও দূরে থাকা প্রয়োজন। কারণ এটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প নয়, বরং বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক আস্থারও একটি বড় প্রতীক।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন ড. মোঃ কবীর হোসেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে দেশীয় ও রুশ বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে কাজ করছেন। �
Rooppur Nuclear Power Plant +1
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অভিযোগ থাকলে তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। একইসঙ্গে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প নিয়ে তথ্যভিত্তিক আলোচনা ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম চর্চাও জরুরি। কারণ একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শুধু অর্থনৈতিক বিনিয়োগ নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সঙ্গেও জড়িত।

