
নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক জন জাগরণ
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—আন্দোলন, সংগ্রাম কিংবা রাজনৈতিক সংঘাতের প্রকৃত মূল্য কে দেয়? বাস্তবতা বলছে, রাস্তায় জীবন হারায় সাধারণ মানুষ, নিঃস্ব হয় মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার; অথচ সুবিধা ভোগ করে একশ্রেণির কৌশলী ও সুবিধাবাদী গোষ্ঠী।
সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা ক্ষমতার পালাবদলের সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি। অনেক গরিব অথচ মেধাবী তরুণ নিজেদের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে পরিবারকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়। কারও বাবা হারান সন্তান, কারও সন্তান হারায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে। অসংখ্য পরিবার অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, অভিযোগ রয়েছে—এই ত্যাগ ও আবেগকে ব্যবহার করে কিছু চালাক ও সুবিধাবাদী মানুষ ক্ষমতার ছায়ায় নিজেদের অবস্থান শক্ত করে নেয়। তারা সাধারণ মানুষের কষ্টের গল্পকে পুঁজি করে বড় বড় বক্তব্য দেয়, অথচ বাস্তব সংকটে পাশে দাঁড়াতে খুব কমই দেখা যায়।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনীতি কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তারা মনে করেন, দেশের রাজনীতিতে এখন প্রয়োজন দায়বদ্ধতা, মানবিকতা এবং জনগণের প্রকৃত কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা।
সচেতন মহলের দাবি, ক্ষমতা কিংবা রাজনৈতিক সুবিধা নয়—দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত সেই সাধারণ মানুষদের, যারা প্রতিদিন সংগ্রাম করে বেঁচে থাকে এবং নানা সংকটের মধ্যেও দেশের অর্থনীতি ও সমাজকে সচল রাখে।
রাজনীতির মাঠে তাই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—ত্যাগের প্রকৃত সম্মান কি আদৌ সাধারণ মানুষ পাচ্ছে, নাকি তাদের কষ্ট কেবলই কারও ক্ষমতার সিঁড়ি হয়ে থাকছে?
মোঃ তরিকুল ইসলাম খান

