
সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
সারাদেশে একযোগে চলমান এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে শিক্ষামন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা থাকলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। আজ সকাল থেকে কালবৈশাখী ঝড়ের তণ্ডবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উপজেলার ১১টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৪৭৪ জন পরীক্ষার্থী মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই এলাকায় শুরু হয় কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি। ঝড়ের কারণে পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ কেভি লাইন ট্রিপ করলে মুহূর্তেই পুরো উপজেলা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, নবীনগর ইচ্ছাময়ী পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং নারায়ণপুর ডিএস কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রসহ মোট ১১টি কেন্দ্রে অন্ধকার নেমে আসে। কক্ষের ভেতরে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় পরীক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে। নিরুপায় হয়ে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষার ব্যবস্থা করে।
সরেজমিনে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, ছোট ছোট মোমবাতির অস্পষ্ট আলোয় কোনোমতে উত্তরপত্র লিখছে শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘক্ষণ অন্ধকারে ও স্বল্প আলোয় পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে চোখের সমস্যায় পড়তে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান জানান, “ঝড়-বৃষ্টির কারণে লাইনে গাছপালা পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আপদকালীন সমাধান হিসেবে মোমবাতি ও চার্জার লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম আবদুল ওয়াদুদ হোসেন বলেন, “সকাল থেকে ঝোড়ো বাতাসে ৩৩ কেভি লাইনের ওপর বিভিন্ন জায়গায় গাছ ভেঙে পড়ায় সিস্টেম ট্রিপ করেছে। আমাদের কর্মীরা মেরামতের কাজ করছে, আশা করছি দ্রুতই সংযোগ স্বাভাবিক হবে।”
এদিকে, বিদ্যুতের এমন বিপর্যয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা (জেনারেশন) বা আইপিএস সচল না রাখা কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি। পর্যাপ্ত আলো না থাকায় সন্তানদের ফলাফল নিয়ে তারা এখন উদ্বিগ্ন।
উল্লেখ্য, এ বছর নবীনগরে এসএসসি ৮টি, দাখিল ২টি এবং ভোকেশনাল ১টি কেন্দ্রে মোট ৪ হাজার ৪৭৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। ঝোড়ো আবহাওয়ায় সারা বেলা বিদ্যুৎহীন থাকায় পরীক্ষা শেষে ফেরার পথেও পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পোহাতে হয়েছে চরম দুর্ভোগ।

