
কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ড. জহুরুল ইসলাম একাধিক গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, যা সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং বিষয়গুলো তদন্তের দাবি আরও জোরালো করেছে।
ড. জহুরুল ইসলামের দাবি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন আয়োজন ও স্থায়ী ক্যাম্পাসের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যথাযথ ভূমিকা পালন করেননি। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৩ সাল থেকেই এসব প্রকল্পে অগ্রগতি না হওয়ার পাশাপাশি উল্টো তাকে দায়ী করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এছাড়া, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সমাবর্তন আয়োজন ও স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের লক্ষ্যে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হলেও, ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর সেই পরিকল্পনা নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রতিষ্ঠাতার অভিযোগে আরও উঠে এসেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিট কার্যক্রমে বাধা প্রদান, গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নথি ও জমি ক্রয়ের দলিল গোপন করা, এবং স্থায়ী আমানতের ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য লুকিয়ে রাখার মতো গুরুতর অনিয়মের কথা। এমনকি তিনি দাবি করেন, জাল নথি ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ঘটেছে।
এছাড়া, ভুয়া ট্রাস্ট গঠন, মিথ্যা মামলা দায়ের এবং ব্যাংক হিসাব ও নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের চেষ্টা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে অনুমোদন ছাড়াই স্থায়ী ক্যাম্পাসের কাজের নামে আর্থিক অনিয়মের ঘটনাও ঘটেছে।
ড. জহুরুল ইসলাম দাবি করেছেন, তার উত্থাপিত প্রতিটি অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ রয়েছে এবং প্রয়োজনে তা উপস্থাপন করতে তিনি প্রস্তুত।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সেখানে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা জরুরি। এতে যেমন প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষা পাবে, তেমনি শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার আস্থা বজায় থাকবে।
সর্বশেষে বলা যায়, রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে উত্থাপিত এই অভিযোগগুলো এখন কেবল ব্যক্তিগত বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

