
সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উজানচর কে এন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে তার নির্ধারিত সিলেবাসের পরিবর্তে ভিন্ন বছরের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চরম গাফিলতির দায়ে কেন্দ্রের দুই শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং কেন্দ্র সচিবকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
জানা গেছে, উজানচর কে এন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে তিনটি বিদ্যালয়ের ২২৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। গত মঙ্গলবার বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার দিন বাঞ্ছারামপুর সরকারি এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তারকে ২০২৫ সালের সিলেবাসের পরিবর্তে ২০২৬ সালের নতুন সিলেবাসের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থী সুমাইয়া জানায়, সে বারবার কক্ষ পর্যবেক্ষকদের বিষয়টি অবগত করে যে সে ২০২৫ সালের (পুরাতন) সিলেবাসের পরীক্ষার্থী। কিন্তু কর্তব্যরত শিক্ষকরা তার কথা আমলে না নিয়ে তাকে নতুন সিলেবাসের প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা দিতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার কারণে গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একটি জরুরি নোটিশ জারি করেন। গৃহীত পদক্ষেপগুলো হলো:
কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা উজানচর কে এন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সিহাব উদ্দিন এবং রূপসদী জামিদা মনছুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে পরীক্ষার যাবতীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্র সচিব ও উজানচর কে এন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন চন্দ্র সূত্রধরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্র সচিব তপন চন্দ্র সূত্রধর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “কক্ষ পর্যবেক্ষকদের গাফিলতির কারণে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা বিষয়টি জানার পর দ্রুত শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করেছি এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের চেষ্টা করছি।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষক সিহাব উদ্দিন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সুমাইয়া তার শিক্ষকের মাধ্যমে ইউএনও-র কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর বিষয়টি সামনে আসে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

