
ঝিনাইদহে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে গুরুতর আহত কৃষক দল নেতার মৃত্যু
সৌভিক পোদ্দার, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি
১৩.০৩.২০২৬
ঝিনাইদহ বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে গুরুতর আহত কৃষক দল নেতা তরু মুন্সি (৪৪) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
তরুণ মুন্সি সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের ৮(আট) নং ওয়ার্ডের কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
তিনি মাধবপুর গ্রামের মৃত মনসুর আলী মুন্সির ছেলে।
আহত নেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ বিল্লাল হোসেন কৃষকদল নেতার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার আগে শুক্রবার সকালে মাধবপুর গ্রামের ওহিদুলের বাড়িতে জামায়াতের নারী কর্মীরা তালিম শুরু করেন। তালিম শেষে সেখানে ইফতার মাহফিল করার কথা ছিল। বেলা ১১(এগারো) টার দিকে তালিমের খবর পেয়ে কৃষকদল নেতা তরু মুন্সি, তার ছেলে শিপন মুন্সি, হোসেন আলী, শহিদুল ইসলাম, নায়েব আলী, আব্দুল খালেক ও আকবর আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে তালিম বন্ধ করার চেষ্টা করেন।
এতে জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে কৃষকদল নেতা তরু মুন্সি, তার ছেলে শিপন মুন্সি, হোসেন আলী, শহিদুল ইসলাম, নায়েব আলী, আব্দুল খালেক ও আকবর আলী সহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত তরু মুন্সিকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়।
জেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক সাকিব আহমেদ বাপ্পী বলেন, “কৃষকদল নেতা তরু মুন্সি মাথায় গুরুতর জখম নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি রাত সাড়ে ৮(আট)টার দিকে মারা গেছেন। ঘটনার পর নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।”
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ড. হাবিবুর রহমান জানান, “জামায়াতের নারী কর্মীদের তালিম প্রোগ্রামে কোনো কারণ ছাড়া হামলা চালায় বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ কারণে সংঘর্ষ হয়েছে। পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আমরা স্থানীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছি। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের দায়িত্ব।”
সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু বলেন, “স্থানীয়দের মাধ্যমে জানা যায়, জামায়াতের নারী কর্মীরা বিএনপি পরিবারের নারীদের জোরপূর্বক তালিমে ডেকেছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন কর্মী তাদের সঙ্গে কথা বললে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পূর্বপ্রস্তুত জামায়াতের কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। আমাদের কৃষকদল নেতা তরু মুন্সি গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছেন। আমরা এঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি ও গ্রেফতার দাবি করছি।”
ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, “জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষে একজন মারা গেছেন। উত্তেজনা ও অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ টিম মোতায়েন রয়েছে। এলাকায় পরিস্থিতি এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। সংঘর্ষে জড়িতদের গ্রেফতারের অভিযান চলছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”

