
মাসুম বিল্লাহ-খুলনা :
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা এবং চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ‘ভিশন’ অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ, খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুর স্নেহধন্য এবং মহানগর বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক ও সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুরাদ একটি বিস্তারিত ব্লু-প্রিন্ট তুলে ধরেছেন। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।
আসাদুজ্জামান মুরাদ কর্তৃক উপস্থাপিত আধুনিক বাংলাদেশের সেই ব্লু-প্রিন্টের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১)ফ্যামিলি কার্ড: দেশের প্রায় ৪ কোটি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। কার্ডটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা হবে, যাতে পারিবারিক আর্থিক সিদ্ধান্তে নারীর ভূমিকা ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ (সম্ভাব্য ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা) সরাসরি ব্যাংক বা মোবাইল অ্যাকাউন্টে প্রদান। চাল, ডাল, তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে বা বিনামূল্যে পাওয়ার সুবিধা।
২)কৃষিকার্ড : সরকারি ন্যায্যমূল্যে উন্নতমানের বীজ ও সার সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছানো।মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে ভর্তুকির টাকা সরাসরি কৃষকের অ্যাকাউন্টে প্রদান এবং সহজ শর্তে কৃষি ঋণ।প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি হলে কৃষকের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশে প্রথমবারের মতো ব্যাপক হারে শস্য, গবাদি পশু ও মৎস্য বিমা চালু।কৃষিকাজে জ্বালানি ও বিদ্যুতে বিশেষ ভর্তুকি এবং সৌরচালিত পাম্পের অগ্রাধিকার।
৩)বেকারত্ব দূর করতে তারুণ্যনির্ভর কর্মসংস্থান ও আইটি খাতের বিপ্লবের পরিকল্পনা: সাইবার সিকিউরিটি, ডাটা প্রসেসিং ও এআই (AI) খাতের প্রসারে ২ লক্ষ এবং ফ্রিল্যান্সিং-এর মাধ্যমে আরও ৮ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য।রেল স্টেশন, বিমানবন্দর এবং গ্রামীণ ডিজিটাল সেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল স্থানে বিনামূল্যে হাই-স্পিড ইন্টারনেট সুবিধা। বিসিএসসহ সকল সরকারি চাকরিতে দলীয় প্রভাবমুক্ত এবং শতভাগ স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।
৪)”সবার জন্য স্বাস্থ্য” স্লোগানে স্বাস্থ্য খাতের আমূল সংস্কার: ১ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ: মূলত নারী (৮০% কোটা) স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে যারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করবেন। বড় বড় বেসরকারি হাসপাতালের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ক্যান্সার, কিডনি ও হার্টের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসা সাধারণ মানুষের জন্য সুলভ করা।প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ঔষধ এবং দেশে উৎপাদিত সব ভ্যাকসিন বিনামূল্যে সরবরাহ।ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোধে সারা বছরব্যাপী বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কার্যক্রম পরিচালনা।
৫)শিক্ষা ও বিদেশে কর্মসংস্থানে ক্যাম্পাস ক্যারিয়ার সেন্টার: প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার সেন্টার থাকবে যা ফ্রিল্যান্সিং ও আধুনিক দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে।বিদেশে কর্মসংস্থানের মান ও মজুরি বাড়াতে ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব এবং বছরে ২০ লক্ষ মানুষের বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।প্রতিটি উপজেলা ও জেলায় আধুনিক কারিগরি ইনস্টিটিউট স্থাপন।
৬)রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সুশাসনে ৩১ দফা সংস্কার: এটি বিএনপির রাষ্ট্রীয় সংস্কারের মূল ভিত্তি। এর মাধ্যমে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা হবে। “প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতি”র পরিবর্তে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সম্প্রীতিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।সরকারি প্রতিটি খাতে কঠোর জবাবদিহিতা এবং ডিজিটাল ডাটাবেজ ব্যবহারের মাধ্যমে দুর্নীতি রোধ।
আসাদুজ্জামান মুরাদ বিশ্বাস করেন, তারেক রহমানের এই “নতুন ধারার রাজনীতি” কেবল একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এটি একটি আধুনিক, স্বনির্ভর ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার বাস্তবসম্মত রূপরেখা। এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

