
নিজস্ব প্রতিনিধি :
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন আসনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে যারা কাজ করবে বা সমর্থন দেবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে বিএনপি। বিদ্রোহী প্রার্থীদের যেমন বহিষ্কার করা হয়েছে, তেমনি তাদেরকেও বহিষ্কার করা হবে। এই অভিযোগে ইতিমধ্যে দু’জনকে সাংগঠনিক শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। সামনেও এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।
ওদিকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিষ্কার করা হলেও শেষ পর্যন্ত যদি তারা মাঠে থাকেন তাহলে দলীয় মনোনীত প্রার্থী ও মিত্রদের সমর্থন দেয়া অনেক আসনে বিএনপিকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। এমনকি আসনগুলো হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে বলে মনে করছেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সিনিয়র এবং তৃণমূলের নেতারা। তাদের ভাষ্য, নির্বাচনে যেসব আসনে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে, তাদের নিজস্ব ভোটের বলয় রয়েছে। এসব আসনের ফলাফল বিএনপি’র ঘরে তুলতে বেগ পেতে হবে।
দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যেসব নেতা সংসদ নির্বাচনে স্বতস্ত্র প্রার্থী হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে বিএনপি। গত বুধবার ৫৯ জন বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। এর আগে আরও ১২ জন্য প্রার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। গতকালও একজন বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার করেছে দলটি। সবমিলে এ পর্যন্ত ৭২ জন বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শনিবার জামালপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিকুর রহমান সিদ্দিকি শুভকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি জামালপুর জেলাধীন মেলান্দহ উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। এদিন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য জামালপুর জেলাধীন মেলান্দহ উপজেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক মো. সাদিকুর রহমানকে বিএনপি’র প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সিনিয়র এক নেতা মানবজমিনকে বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীরা এখন বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে, সেখানে দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের জেতার সম্ভাবনা একটু বেশি হলেও আছে। কিন্তু যে আসনে বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের নেতাদের সমর্থন দিয়েছে ওইসব আসনে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সেখানে বিরোধীরা সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে বলে মনে করছেন বিএনপি’র এই নেতা।
বিএনপি’র নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে কেন্দ্র থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তাদেরকে দল মনোনীত প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে মাঠ থেকে সরে যেতে বলা হচ্ছে। দলের এই নির্দেশনা কতোজন বিদ্রোহী প্রার্থী মেনে মাঠ ছেড়ে চলে যাবেন, তার নিয়ে কিছুটা হলেও সংশয় রয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সরে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। সমঝোতার ভিত্তিতে সরে গেলেও ব্যালটে তাদের নাম থাকবে।
ওদিকে দেখা গেছে, বিএনপি’র যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের ১৭টি আসন ছেড়ে দিয়েছে। এর মধ্যে ৯টি আসনে শরিকরা তাদের দলীয় প্রতীকেই ভোট করছেন। আর বাকি ৮টি আসনে প্রার্থীরা নিজেদের দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগদান করে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোট করছেন। নিজেদের প্রতীকে যারা ভোট করছেন- এই ৯ জনের মধ্যে ৬ জনকে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে লড়াই করতে হবে। দল ছেড়ে যারা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন, এই ৮ জনের মধ্যে ৫জন প্রার্থীকে বিদ্রোহী মোকাবিলা করতে হবে।
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মানবজমিনকে বলেন, তৃণমূলের কোনো নেতাকর্মী বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে, সেটা যদি প্রকাশ্যে প্রমাণ পাওয়া যায় যে-তিনি বিদ্রোহীর সঙ্গে কাজ করছেন, বক্তৃতা করছেন-এমন রেকর্ড পাওয়া যায় তাহলে নিশ্চিয়ই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর মধ্যে স্বতস্ত্র প্রার্থীদের বহিষ্কার করা হয়েছে। অনেকেই এরমধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। আর বিদ্রোহীর পক্ষে থাকার এখন পর্যন্ত দু’একজনের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যেগুলোর ডকুমেন্ট কিংবা ভিডিও এসেছে তা দেখে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

