
নিজস্ব প্রতিনিধি :
১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ ২২ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণা। গতকাল প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে প্রার্থীদের প্রস্তুতি পর্ব, আর আজ থেকেই সারা দেশে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই পোস্টার, মাইকিং, পথসভা ও গণসংযোগে মুখর হয়ে উঠছে রাজনৈতিক অঙ্গন।
নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর প্রাক্কালে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, পেশিশক্তি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থের অপব্যবহার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, কোনো প্রার্থী বা দল যেন অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করে নির্বাচনী পরিবেশ প্রভাবিত করতে না পারে—সে বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস, জামাত-বিএনপি মুখোমুখি আসনভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও অন্যান্য বিরোধী শক্তির সঙ্গে বাংলাদেশ জামাত ইসলামের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরের একাধিক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চরম আকার ধারণ করতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।
তবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগেই জামাত ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় নির্বাচন ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ
বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, জামাত ইসলামের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে ঢাকা-১৫ আসনে এ ধরনের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে। এ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন অভিযোগ করে বলেন—
“আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামাত ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে তার কর্মী ও নারী সদস্যরা ইতিমধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি কার্ড ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করেছে। এলাকাবাসী তাদের আটকও করেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।”
তিনি অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করে জামাত ইসলামের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
পীরেরবাগে সংঘর্ষ, আহত উভয় পক্ষের নেতাকর্মী স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় এনআইডি সংগ্রহের অভিযোগে মধ্য পীরেরবাগ এলাকায় কয়েকজনকে আটক করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে জামাতের ১৫০–২০০ নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে জড়ো হলে বিএনপি ও জামাত সমর্থকদের মধ্যে হট্টগোল ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন বলে জানা গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নির্বাচন প্রভাবিত করার অপচেষ্টা-
বিএনপির অভিযোগ, এনআইডি ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ভোটার প্রভাবিত করা কিংবা ভোট ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চলছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য মারাত্মক হুমকি।
এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ইসি জানিয়েছে, এনআইডি, বিকাশ বা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ সম্পূর্ণ বেআইনি, এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন
সার্বিক পরিস্থিতিতে দেশের সাধারণ মানুষ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চায়। জনগণের প্রত্যাশা—যে দল জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবে, তারাই রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে; পেশিশক্তি, অর্থের প্রভাব কিংবা ভয়ভীতি দিয়ে কেউ যেন ক্ষমতায় না আসতে পারে।
নির্বাচন কমিশনও সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

