
মো: মাসুম বিল্লাহ-খুলনা :
ভারতের আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রসেনানী এবং ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম রূপকার শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে খুলনা। আজ শনিবার বিকেলে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ শিববাড়ী মোড়স্থ বাবরি চত্বরে ‘বিক্ষুব্ধ খুলনাবাসী’র ব্যানারে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।
বিকেল ৪টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে খুলনার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ, ছাত্র-জনতা এবং রাজনৈতিক কর্মীরা সমবেত হতে থাকেন। সমাবেশস্থল থেকে ‘ওসমান হাদির রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’, ‘আধিপত্যবাদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ এবং ‘ইনসাফের বাংলাদেশে খুনিদের ঠাঁই নেই’—এমন সব তেজোদীপ্ত স্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। উপস্থিত জনতা ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’ স্লোগানে বিচারের দাবিতে সংহতি প্রকাশ করেন।
সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বক্তারা বলেন, শহীদ ওসমান হাদি ছিলেন এদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইয়ের এক নির্ভীক কণ্ঠস্বর। ভারতের আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠভাবে কথা বলায় তাকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। বক্তারা অভিযোগ করেন যে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে দেশি-বিদেশি গভীর ও সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র রয়েছে।
‘বিক্ষুব্ধ খুলনাবাসীর’ নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, “ওসমান হাদি শুধু একজন ব্যক্তি ছিলেন না, তিনি ছিলেন ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার এক স্বপ্নদ্রষ্টা। তার এই আত্মত্যাগ আমাদের লড়াইয়ের প্রেরণা। অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় সারা দেশে আরও কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
বিক্ষোভ কর্মসূচিটি এক পর্যায়ে অবস্থান কর্মসূচিতে রূপ নেয়। এসময় শিববাড়ী মোড় এলাকায় যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কর্মসূচির যৌক্তিকতা দেখে সাধারণ পথচারীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সংহতি প্রকাশ করেন এবং কর্মসূচিতে যোগ দেন।
কর্মসূচি থেকে উত্থাপিত প্রধান দাবিসমূহ, শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত নিশ্চিত করা।হত্যাকাণ্ডের মূল কুশীলব ও সরাসরি জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি (ফাঁসি) নিশ্চিত করা।ভারতের আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনকে জাতীয়ভাবে আরও বেগবান করা।ওসমান হাদির পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ সহযোগিতা ও নিরাপত্তা প্রদান করা।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সংবাদিকদের জানানো হয়েছে, হাদি হত্যার প্রকৃত বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে এই প্রতিবাদী আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

