
আল হাফিজ-মোল্লাহাট (বাগেরহাট) :
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি সেবা নিতে এসে এক নারী রোগী ও তার স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসক ও নাইট গার্ডের অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর ২০২৫) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে মোল্লাহাট উপজেলার শাসন গ্রামের মনিকা (২৬) অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ সময় মোল্লাহাটের গাড়ফা গ্রামের আত্মীয় ইমন শেখ (১৮) তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে সহায়তা করেন।
হাসপাতালে কর্তব্যরত সহকারী সার্জন ডাঃ অপূর্ব রোগীকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং জরুরি কিছু ওষুধ লিখে বাইরে থেকে কিনে আনতে বলেন। তবে রোগীর স্বজনরা জানান, সরকারি হাসপাতালে ওষুধ সরবরাহ থাকার কথা উল্লেখ করলে চিকিৎসক এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি রোগীকে ভর্তি করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন এবং অন্যত্র নিয়ে যেতে বলেন।
রোগীর স্বজনরা অনুরোধ করলে ডাঃ অপূর্ব অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও বাজে আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা হাসপাতালে উপস্থিত হন। পরে পরিস্থিতির চাপে হাসপাতাল থেকেই ওষুধ সরবরাহ করা হয়।
এ সময় নাইট গার্ড রিপন (গ্রাম: নতুন ঘোষগাতী, থানা: মোল্লাহাট) চিকিৎসকের পক্ষ নিয়ে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে অশালীন ভাষায় গালিগালাজে জড়ান বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তেন মং-এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন।
ঘটনার আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো—নাইট গার্ড রিপন নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি হাসপাতালের বৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী নন। তাকে বাইরের কেউ বেতন দেন এবং নাইট গার্ডের পাশাপাশি তিনি জরুরি বিভাগে চিকিৎসকদের সহায়তা করেন। বৈধ নিয়োগ ছাড়া একজন ব্যক্তি কীভাবে জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, মোল্লাহাট একটি জনবহুল উপজেলা হলেও এখানে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট একটিমাত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। রোগীর তুলনায় চিকিৎসক ও জনবল সংকট দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিতে হবে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডাঃ অপূর্ব ও অবৈধভাবে দায়িত্ব পালনকারী নাইট গার্ড রিপনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও রোগীবান্ধব চিকিৎসা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

