
নিজস্ব প্রতিনিধি :
প্রচন্ড দুঃখ ও অভিমান থেকেই হেডলাইনটা লিখতে হলো। ১৯৭১ সালে এদেশের সূর্যসন্তানেরা দীর্ঘ ৮ মাস লড়াই করে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের একটি রাষ্ট্র আমাদের উপহার দেন। নিসন্দেহে মুক্তিযোদ্ধারা এ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। এখন পর্যন্ত জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিয়ে আজ কিছু সমালোচনা করব।
মুক্তিযোদ্ধারা নিজেরাই নিজেদের গৌরব ও সম্মানকে বিলীন করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নামে ওনাদের একটি বিশাল বড় সংগঠন আছে। মজার বিষয় হচ্ছে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা হন আওয়ামী পন্থী, বিএনপি গেলে বিএনপি পন্থী। আওয়ামী শাসন আমলে দেশজুড়ে অরাজকতা ও অপশাসন হলেও তখন মুক্তিযোদ্ধারা কথা বলে না। বিএনপির সময়ও তারা একই রকম থাকে। অথচ ওনারা জাতিকে পথ দেখাতে পারতেন। হাসিনার অপশাসনের বিরুদ্ধে জীবিত মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিবাদ করলে বছরের পর বছর সে ক্ষমতা দখল করে অপশাসন করতে পারত না। একইভাবে বিএনপির শাসনামলে মুক্তিযোদ্ধারা গর্জন করলে বাংলাদেশ ওয়ান ইলেভেনের কু-শাসনের কবলে পতিত হতো না।
আজ ওনাদের ভুলে জাতির মধ্যে বিভেদের সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের সময় বিএনপিসহ অন্যান্য দলের নেতাকর্মী দিয়ে জেল ভরা হয়। এখন আওয়ামী লীগের লোক দিয়ে জেল ভরা হচ্ছে। ওনাদের ভুলেই ১৯৭১ সালের সেই পরাজিত শক্তি মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। আজ জাতীয় বুদ্ধিজীবী হত্যা দিবসে তাদের আস্ফালন দেখা গেছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, “১৯৭১ সালে শহীদ বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ।” তিনি তার বক্তব্যে এটাও বুঝাতে চেয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ ছিল ভারতের ষড়যন্ত্র। আরেক দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সহ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেছেন, “যে সময় আমি (পাকিস্তানি বাহিনী) দেশ থেকে পালানোর জন্য চেষ্টা করছি, আমি জীবিত থাকব না মৃত থাকব, সে বিষয়ে কোনো ফয়সালা হয়নি, সে সময় পাকিস্তানি যোদ্ধারা বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করবে, এটি আমি মনে করি রীতিমতো অবান্তর।”
অথচ মুক্তিযুদ্ধের সময় এক কোটি শরনার্থীদের আশ্রয় দেওয়া, মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়েছিল ভারত। আমি ভারতের অবদান অস্বীকার করলাম। প্রশ্ন রেখে গেলাম, স্বাধীন হয়ে আমরা কী খারাপ আছি? না, কখনও না। এই পরাজিতরা কী জানে! বর্তমানে বাংলাদেশের ১ টাকা পাকিস্তানের ২.৩৩ রুপির সমান।
আজকের দিনে সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মামুন আল হাসান একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম ও মতিউর রহমান নিজামীকে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে এদেশের ‘সূর্যসন্তান’ বলে মন্তব্য করেছেন। অথচ একাত্তরের সবচেয়ে বড় নরপশুর নাম গোলাম আজম। যে পাকিস্তানি হানাদারদের সঙ্গে নিয়ে নিজের গড়ে তোলা রাজাকার, আলবদর, আলশমস ও মিলিশিয়া বাহিনী নিয়ে এদেশে নৃশংস হত্যায় মেতে ওঠে। এমনকি স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দিতে বিভিন্ন দেশে যান তিনি। এই রাজাকার স্বাধীনতার পর ৭ বছর পাকিস্তানে পালিয়ে থাকার পর দেশে এসে জুতার বাড়ি খায় মানুষের কাছে। সে হচ্ছে পাকিস্তানের সূর্য সন্তান!

