
সুমন খান :
রাজধানীর মিরপুর-১ শাহআলী থানা এলাকার চিড়িয়াখানা রোড, রাইনখোলার মোড়ে অবস্থিত দেশের জনপ্রিয় ও ‘বিশ্বস্ত’ ফার্মেসী হিসেবে পরিচিত লাজফার্মা—এখন নকল ও ভুল ওষুধ বিক্রির অভিযোগে কঠিন বিতর্কের কেন্দ্রে। ভুক্তভোগী পরিবারসহ একাধিক সূত্রের দাবি, সুনামের আড়ালে এই ফার্মেসী দীর্ঘদিন ধরে নকল ওষুধ বিক্রির মাধ্যমে কোটি টাকার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
৬০ লাখ টাকায় সাইনবোর্ড কিনে নকল ওষুধের রমরমা ব্যবসা!
সূত্র জানায়, লাজফার্মার মূল মালিক লুৎফর রহমান প্রতি শাখার সাইনবোর্ড মোটা অংকের টাকায় রাজনৈতিক ক্ষমতাসীনদের দোসরদের কাছে বিক্রি করে থাকেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ বছরের জন্য এককালীন ৬০ লাখ টাকা এবং মাসিক ১ লাখ টাকা ভাড়ায় ‘লাজফার্মা’ নাম ব্যবহার করে ওষুধ বিক্রি করছে চক্রটি।
এই অবৈধ চুক্তির আড়ালে ওষুধের মান, নিরাপত্তা বা ভোক্তার স্বাস্থ্যের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।
ভুল ও নকল ওষুধে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা খালেদা আক্তার রিনার করুণ পরিণতি
চিড়িয়াখানার,পাশে,কামাল,হাউজিংয়ের বাসিন্দা খালেদা আক্তার রিনা, ডাক্তারি প্রেসক্রিপশন নিয়ে গেলেও পান ভিন্ন গ্রুপের ক্ষতিকর ওষুধ।প্রেসক্রিপশনে ছিল—মেথোফ্লেক্স ৫০০ এমজি,কিন্তু লাজফার্মা দেয় মিথোট্রেক্স ১০ এমজি (১০ ট্যাবলেট)যা মেথোফ্লেক্সের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই এবং ভুল ব্যবহারে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধ।ওই ওষুধ সেবনের পর রিনার কিডনি ও লিভার ড্যামেজ হয়ে যায়, মাথার চুল-ভ্রু পর্যন্ত উঠে যায়। ১ নভেম্বর থেকে গ্রীনলাইফ হাসপাতালে দীর্ঘ ২২ দিন জীবন-মৃত্যুর সাথে লড়ছেন তিনি।সুনাম রক্ষায় টাকা, পরে দায় এড়াতে পলায়ন—লাজফার্মার দ্বিমুখী আচরণ রিনা আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার খবর পেয়ে লাজফার্মার ম্যানেজার মোঃ ওবায়দুল হাসপাতালে ছুটে যান এবং সুনাম বাঁচাতে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা চিকিৎসার জন্য দেন। তিনি ভবিষ্যতের সব চিকিৎসার খরচ বহনের প্রতিশ্রুতিও দেন।কিন্তু পরে অবস্থান বদলে যায়।১১ নভেম্বর ভুক্তভোগীর পরিবার আরও সাহায্যের জন্য লাজফার্মায় গেলে ম্যানেজার ওবায়দুল এবং পরিচালক বেলালের ভাই জিলাল তাদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন এবং আর কোনো টাকা দেবেন না বলে জানিয়ে দেন।মিমাংশার নাটক—খসড়া নেওয়া হলেও টাকা দেয়নি লাজফার্মা ১২ নভেম্বর ফেয়ারপ্লাজার ১০ম তলায় এক ডেভেলপার অফিসে উভয় পক্ষকে ডেকে তথাকথিত ‘মীমাংসা’ করা হয়।
সেখানে লাজফার্মা আরও ৪ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং সাদা কাগজে খসড়া লিখে স্বাক্ষরও নেয়।
কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই টাকা দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।বরং উল্টো শাহআলী থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগ করে বসেছে ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে! অভিযোগটি তদন্ত করছেন এসআই রুবেল।নকল ওষুধ বিক্রির ইতিহাস—তবুও আটকায় না লাজফার্মা আগেও লাজফার্মার অন্য শাখায় নকল ওষুধ বিক্রির দায়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
বছরের পর বছর ফার্মেসির সাইনবোর্ড ও রাজনৈতিক প্রভাবের ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারেরও অভিযোগ আছে।ভোক্তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ,করছেন,নকলওঅননুমোদিত ওষুধ, কর্মীদের দুর্ব্যবহারপ্রতারণা ও হয়রানি,পণ্যের,মান,নিয়ন্ত্রণনেই,অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার নেই,ফার্মেসি আইনের ন্যূনতম মানদণ্ডও মানছে না বলে জানিয়েছেন একাধিক ভোক্তা।প্রশ্ন উঠছে—স্বাস্থ্য সুরক্ষা কে দেখবে?নকল ওষুধ বিক্রি শুধু প্রতারণা নয়, এটি জানবাজি হত্যার শামিল। অথচ মিরপুরের ব্যস্ত এলাকায় সাইনবোর্ডের আড়ালে দিনের পর দিন চলছে এই ভয়ঙ্কর ব্যবসা।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসন, পুলিশের নীরবতা সব মিলিয়ে ভোক্তাদের প্রশ্ন একটাই:মানুষের জীবন কি এতই সস্তা?এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।

