
মোঃ ওয়াহেদ আলী-লালমনিরহাট :
লালমনিরহাটে শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। তবে জেলায় শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও শীতের প্রকোপ অনেকটাই অনুভূত হচ্ছে। এতে মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শীতে গ্রামে ও চরের মানুষের কষ্ট বেশি পোহাতে হচ্ছে।
গাড়ি চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। কুয়াশা এতটাই ঘন যে, অল্প দূরত্বেও কিছু দেখা যায় না। মানুষজনও ঘর থেকে কম বের হচ্ছে প্রয়োজন ছাড়া। সকাল ১০টার দিকে সূর্যের দেখা মিললেও তাপ থাকে ক্ষীণ। তাই দুপুর পর্যন্ত শীত অনুভূত হয় তীব্রভাবে।
শীতের দাপটে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক, জেলে, কৃষিশ্রমিক ও ভ্যানচালকরা। ঠান্ডার কারণে তারা কাজে বের হতে পারছেন না। আবার অনেকে কাজেও নিচ্ছে না কুয়াশার কারণে। এত দৈনিক রোজগার কমে গেছে তাদের। কোনোভাবে খেয়ে দিন পার করছেন তারা। অনেকের যথাযথ শীতবস্ত্র না থাকায় আরেক ধরনের কষ্টে পড়েছেন। খোলা মাঠ, বাতাস ও কুয়াশা চন সাধারণের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে।
গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টায় লালমনিরহাটের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, আজ (গতকাল) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে ঠান্ডা উপেক্ষা করে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে ঘর থেকে বের হওয়া লোকজন পড়েছেন বিপাকে। পেটের জ¦ালা মেটাতে কনকনে ঠান্ডায় কর্মে বের হওয়ার ফলে ঠান্ডাজনিত নানা রোগেও আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন অনেকে।
দিনমজুররা বলেন, কুয়াশা ও ঠান্ডায় বাড়ি থেকে বের হওয়া যায় না। কী করবো, কাম করি তো খাওয়া লাগবে।
রিকশাচালকরা বলেন, ঠান্ডায় বাড়িত থাকি বের হইছি, ভাড়া নাই। লোকজন বাইরে বের হবার না পারলে ভাড়া হইবে কী করি? সংসার কীভাবে চলবে চিন্তায় আছি। শীত বস্ত্র না পাইলে গাড়ি চলা বন্ধ করা লাগবে।
অপরদিকে হাসপাতালসহ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শীতজনিত সর্দি-কাশি, জ্বর ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকেরা জানান, শীতকালে শিশু ও বৃদ্ধ রোগীরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে।

