
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর আদাবর থানার শ্যামলী এলাকায় অবস্থিত কুখ্যাত “হোটেল হানিফ” এখন পরিণত হয়েছে অসামাজিক কার্যকলাপ, মাদক ব্যবসা ও নারী পাচারের এক নিরাপদ আশ্রয়স্থলে। প্রশাসনের নীরবতা ও প্রভাবশালী চক্রের ছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলছে এই অবৈধ ব্যবসা।
সম্প্রতি সত্য উদঘাটনে গিয়ে রূপবানী পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার নাসির হোসেন এবং মাতৃভূমি খবর পত্রিকার সাংবাদিক পাথর হোটেলটিতে অনুসন্ধানী তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে হোটেলের ম্যানেজার আমিনুল প্রকাশ্যে হামলার চেষ্টা চালান এবং ভয়াবহ হুমকি দেন। অনুসন্ধান তথ্যে জানা গেছে, সাংবাদিকরা তথ্য জানতে চাইলে ম্যানেজার আমিনুল ক্ষিপ্ত হয়ে চিৎকার করে বলেন তোরা যা পারিস করিস দেখি, তোদের কি ক্ষমতা আছে! আমরা এখানে সবকিছু করব, কেউ ঠেকাতে পারবে না!এরপর সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তেড়ে এসে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন এবং তাদের ধাওয়া করে মারধরের চেষ্টা করেন। স্থানীয় কিছু মানুষ এগিয়ে এসে সাংবাদিকদের উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেন।অভিযোগের পাহাড়: রাতে সন্দেহজনক আনাগোনা, নারী ও মাদকের ব্যবসা!স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “হোটেল হানিফ”-এ প্রতিরাতে নানা ধরণের লোকজন আসে। এখানে চলে নারী ব্যবসা, মাদক সেবন ও বেচাকেনা—যার অনেক ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।একজন এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন এই হোটেলের খবর সবাই জানে, পুলিশও জানে। কিন্তু কেউ কিছু বলে না। সাংবাদিকরা গেলেই ম্যানেজার রেগে গিয়ে হুমকি দেয়।”
সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া!
এই ঘটনায় সাংবাদিক সমাজে নিন্দার ঝড় উঠেছে।বাংলাদেশের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন বলেছে সংবাদকর্মীদের হুমকি দিয়ে কখনো সত্য চাপা রাখা যায় না। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
যদি সাংবাদিকরা নিরাপদ না থাকে, তবে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসন বহুবার অভিযোগ পাওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এতে করে মাদক চক্র ও অসামাজিক ব্যবসায়ীরা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি তদন্তে নামবে কিনা তা এখন সময়ই বলে দেবে।রাজধানীর বুকে বসে “হোটেল হানিফ” যেন হয়ে উঠেছে অপরাধের এক দুর্গ এখন দেখার বিষয়, এই দুর্গ ভাঙতে প্রশাসনের সাহস কতটা!শ্যামলীর “হোটেল হানিফ” কেবল একটি হোটেল নয়—এটি এখন অপরাধের কেন্দ্রবিন্দু। সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং ভয়ভীতি দেখানো কেবল সংবাদমাধ্যম নয়, গোটা সমাজের জন্যই হুমকি।
প্রশ্ন এখন একটাই—সত্য প্রকাশের শত্রুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কে?

