নিজস্ব প্রতিবেদক:
বর্তমানে দেশে সাংবাদিকতায় গঠনমূলক প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে প্রতিহিংসা ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে পেশাটির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও গবেষক আওরঙ্গজেব কামাল।
তিনি বলেন, “গত ১৫-২০ বছরে সাংবাদিকতাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে সাংবাদিকতার পবিত্র ক্ষেত্র দুর্বৃত্তায়নের শিকার হয়েছে। প্রতিনিয়ত আদর্শিক সাংবাদিকরা চাকরি হারাচ্ছেন, আর সুবিধাবাদীরা ক্ষমতার ছত্রছায়ায় বিলাসবহুল জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন।”
আওরঙ্গজেব কামাল আরও বলেন, “আজ সাংবাদিকরাই সাংবাদিকদের শত্রুতে পরিণত হয়েছেন। একই পত্রিকায় কাজ করেও সহকর্মীদের প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধ নেই। সিনিয়র-জুনিয়র নির্বিশেষে সবাই একে অপরকে নিচে টেনে নামানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে।”
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “এখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে প্রকৃত সাংবাদিকেরা পেটে ভাত না পেয়ে নীতিতে অটল থাকছেন, আর ভুয়া সাংবাদিকেরা ফেসবুক পেজ খুলে নিজেদের ‘সাংবাদিক’ দাবি করছে। এতে পেশার মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
আওরঙ্গজেব কামাল বলেন, “একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক যখন সত্য উদঘাটনে কাজ করেন, তখন তার পথ রুদ্ধ করছেন একই পেশার সহকর্মী। এতে শুধু ব্যক্তি নয়, গোটা পেশাটিই দুর্বল হয়ে পড়ছে। সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের অভাব গণমাধ্যমকে করছে অবিশ্বাস্য ও অনির্ভরযোগ্য।”
তিনি আরও জানান, “আজ প্রকৃত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণা, হয়রানি এবং ভুয়া পেজের অপপ্রচার বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব রোধে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
শেষে তিনি বলেন, “সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়—এটি রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এই পেশাকে বাঁচাতে হলে এখনই দরকার সাংবাদিকদের ঐক্য, পেশাগত নৈতিকতা, বস্তুনিষ্ঠতা এবং সততা। প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকুক, কিন্তু তা হোক গঠনমূলক ও ইতিবাচক। প্রতিহিংসা নয়, প্রয়োজন সহমর্মিতা ও পেশাদারিত্ব।”
লেখক: আওরঙ্গজেব কামাল
সভাপতি, ঢাকা প্রেস ক্লাব

