নাফ নদীতে বাংলাদেশী জেলেদের নতুন আতঙ্ক ‘আরাকান আর্মি’
পাঁচ মাসে অপহৃত দেড় তাধিক জেলে!
👇
গত পাঁচ মাসে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বাংলাদেশের দেড় শতাধিক জেলে আরাকান আর্মির হাতে অপহৃত হয়েছেন। মিয়ানমারের এই সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তৎপরতায় ভীত হয়ে ৪০০ জেলে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছেন। সরকারি ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই জেলেরা নিরাপত্তার কারণে নদীতে যাওয়া বন্ধ করেন। ফলে এসব পরিবার এখন চরম আর্থিক সংকটে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ নাফ নদীতে গত তিন মাস ধরে আরাকান আর্মির টহল ও অপহরণ তৎপরতা বেড়ে গেছে—যা জেলেদের জীবনে স্থায়ী আতঙ্ক তৈরি করেছে।
সর্বশেষ ৮ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফের সেন্ট মার্টিন দ্বীপের অদূরে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমার মৌলভীরশীল নামের এলাকা থেকে অস্ত্রের মুখে চারটি ফিশিং বোটসহ ২৩ মাঝিমাল্লাকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি। এ ঘটনায় আতঙ্কিত টেকনাফের অন্তত ৪০০ ট্রলারের তিন হাজার জেলে পাঁচ দিন ধরে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান বলেন, গত ৮ ডিসেম্বর মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্য মংডু টাউন দখলের পর নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে আরাকান আর্মির (এএ) তৎপরতা বেড়েছে। এ সময় এই বাহিনীর সদস্যরা ১৫১ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছেন। এর মধ্যে বিজিবির একক প্রচেষ্টায় ১৩৪ জনকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। অন্য জেলেদের দ্রুত সময়ের মধ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আরও বলেন, ট্রলারসহ ২৩ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। আজকালের মধ্যে ভালো একটি সংবাদ পাওয়া যেতে পারে। এর আগেও আরাকান আর্মির সঙ্গে বিজিবি যোগাযোগ করে কয়েক দফায় দেড় শতাধিক অপহৃত বাংলাদেশি জেলেকে ফিরিয়ে এনেছে।
ট্রলারমালিকদের দাবি, আরাকান আর্মির সদস্যরা দ্রুতগতির স্পিডবোট নিয়ে নাফ নদীর বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে পড়ছেন। তাঁরা অস্ত্রের মুখে টেকনাফের জেলেসহ মাছ ধরার ট্রলার ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। বিজিবির তৎপরতায় সম্প্রতি কিছু জেলেকে ফেরত আনা গেলেও অপহরণের ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না।
প্রথম আলো/ এপ্রিল ১৫, ২০২৫

