
নিজস্ব প্রতিবেদক,
“নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: আমার, আপনার, সকলের দায়িত্ব”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) সাপ্তাহিক জনসচেতনতামূলক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য রাখতে নাগরিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় এ আয়োজনে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি এবং ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব নয়; এটি নগরের প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব। নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলা, যত্রতত্র ময়লা না ছড়ানো এবং নিজের বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, “আমরা যদি প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করি, তাহলে আমাদের নগরকে আরও পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর করে গড়ে তোলা সম্ভব। ডিএনসিসি পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। তবে নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া কোনো উদ্যোগই পুরোপুরি সফল করা সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা এবং নিয়ম মেনে তা অপসারণের বিষয়ে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। পরিচ্ছন্ন নগর নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও নাগরিকদের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংরক্ষিত নারী সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর নগর গড়ে তুলতে নাগরিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। শুধু সরকারি সংস্থা বা সিটি কর্পোরেশনের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে হবে না; প্রত্যেক পরিবার থেকে পরিচ্ছন্নতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানদের একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর নগর উপহার দিতে চাই। সে জন্য আজ থেকেই আমাদের নিজেদের আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে। যেখানে-সেখানে বর্জ্য না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলতে হবে এবং অন্যদেরও এ বিষয়ে উৎসাহিত করতে হবে।”
তিনি বিশেষ করে নারী ও তরুণ প্রজন্মকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নগরবাসীর মধ্যে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশেষ অতিথি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার দায়িত্ব আমাদের সবার। শুধু রাস্তা বা ফুটপাত পরিষ্কার করলেই পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত হবে না; বাসাবাড়ি, মার্কেট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ প্রতিটি জায়গায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঠিক নিয়ম মেনে চলতে হবে।
তিনি বলেন, “আমাদের ছোট ছোট সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণই একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে। আমরা নিজেরা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজের অন্যদেরও সচেতন করলে একটি পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলা সম্ভব।”
তিনি ডিএনসিসির এমন জনসচেতনতামূলক আয়োজনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কর্মসূচি পরিচালনা করা হলে নগরবাসীর মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
আয়োজনে বক্তারা নগরবাসীর প্রতি যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলা, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলা, পরিবেশ দূষণ রোধ এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার দায়িত্ব শুধু কর্তৃপক্ষের নয়—এ দায়িত্ব আমার, আপনার, আমাদের সকলের।

