
মোঃ জাহিদ হোসেন জিমু ,
গাইবান্ধা সদর থানা এলাকায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পুলিশের পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁজার গাছ, শুকনা গাঁজা এবং মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে পলাতক শীর্ষ মাদক কারবারি সাদেকুল ইসলাম ওরফে সাদেককেও পরবর্তীতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি চৌকস আভিযানিক দল গত ১৩ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে সদর উপজেলার ৪নং সাহাপাড়া ইউনিয়নের বাউলারপাড়া গ্রামে এই অভিযান চালায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শীর্ষ মাদক কারবারি মোঃ সাদেকুল ইসলাম ওরফে সাদেকের (৫১) বসতবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় তার শয়নকক্ষে মাদক বেচাকেনা ও সেবনরত অবস্থায় মোঃ সবুজ আকন্দ (৩২) নামে একজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে সবুজের পরিহিত লুঙ্গির কোচরে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ৪০ গ্রাম শুকনা গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মূল হোতা সাদেকুল ইসলাম পালিয়ে যান। গ্রেফতারকৃত সবুজ বাউলারপাড়া গ্রামের মৃত আশরাফুল আকন্দের ছেলে।
গ্রেফতারকৃত সবুজকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, পলাতক সাদেকুল ইসলাম ওই এলাকার মূল গাঁজা ব্যবসায়ী ও যোগানদাতা। পরে আসামির দেওয়া তথ্যমতে, সাদেকের বাড়ির আঙিনা তল্লাশি করে ২টি কাঁচা গাঁজার গাছ, গাঁজা মাপার যন্ত্র এবং গাঁজা ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে একই দিন (১৩ আগস্ট) রাত সোয়া ৯টার দিকে পুলিশের আরেকটি সফল অভিযানে গাঁজার গাছ মামলার প্রধান পলাতক আসামি সাদেকুল ইসলামকেও তার নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, আসামি সবুজের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ৩টি এবং সাদেকের বিরুদ্ধে ১টি মাদক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা (মামলা নং- ৩৭, তারিখ ১৩/০৮/২০২৬) রুজু করা হয়েছে।
এর আগে, গত ১২ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার ৮নং বোয়ালী ইউনিয়নের উত্তর ফলিয়া এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান পরিচালিত হয়। স্থানীয় জনৈক মোঃ মাহবুবুর রহমানের মুদির দোকানের পেছনে একটি ক্যারাম খেলার ঘর থেকে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় মোঃ রনি মিয়া (২৪) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশ। রনি পূর্ব কোমরনই গোদারহাট ফলিয়া এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(৫) ধারায় প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে।
গাইবান্ধায় মাদকের বিস্তার রোধে এবং যুবসমাজকে রক্ষায় পুলিশের এ ধরনের জিরো টলারেন্স অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

