
নিজস্ব প্রতিবেদক :
নির্বাচনের আগে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী গণমাধ্যমগুলোর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সেই গণমাধ্যমগুলোর প্রতি সরকারদলীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এবং নীতিনির্ধারকদের আগ্রহ ও যোগাযোগ কমে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক জনজাগরণ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমের মূল নীতি হলো নিরপেক্ষতা। তবে বাস্তবতায় বিভিন্ন গণমাধ্যম বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ বা দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে সংবাদ প্রকাশ করে থাকে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অনেক জাতীয়তাবাদী আদর্শের গণমাধ্যম নানা প্রতিকূলতা ও ঝুঁকি মোকাবিলা করে সাহসিকতার সঙ্গে সংবাদ প্রকাশ করেছে। অথচ বর্তমান সময়ে সেই গণমাধ্যমগুলোর অনেকেই যথাযথ মূল্যায়ন বা যোগাযোগ থেকে বঞ্চিত।
মোঃ শিহাব উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন এক সময় ছিল যখন রাজপথে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত ছিল এবং অনেক নেতাকর্মী প্রকাশ্যে সক্রিয় হতে পারতেন না। সে সময় অনলাইনভিত্তিক গণমাধ্যমগুলো সংবাদ প্রকাশ, জনমত গঠন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাঁর দাবি, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে এসব গণমাধ্যম নানা চাপ, মামলা, হুমকি ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও তাদের অবস্থান থেকে সরে যায়নি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যেসব ব্যক্তি অতীতে ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিভিন্ন মূলধারার গণমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন, তারাই এখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করছেন। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন জাতীয়তাবাদী আদর্শ ধারণ ও লালন করে কাজ করা অনেক সাংবাদিক ও গণমাধ্যম এখনো যথাযথ স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন পাননি।
মোঃ শিহাব উদ্দিনের মতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী সাংবাদিকদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হতে পারে, যা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনের জন্য অশনি সংকেত হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অনলাইন গণমাধ্যমগুলো যাচাই করে দেখুন। কারা প্রতিকূল সময়ে সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করেছে, কারা জাতীয়তাবাদী আদর্শের পক্ষে জনমত গঠনে ভূমিকা রেখেছে—সেটি মূল্যায়ন করা উচিত। এটি কোনো তোষামোদ নয়; বরং তাদের ন্যায্য অধিকার ও অবদানের স্বীকৃতি।”
তিনি আরও বলেন, “আজ যদি এসব সাহসী সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকে তাদের প্রাপ্য সম্মান ও মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তাদের পাশে পাওয়া কঠিন হতে পারে। তারা হয়তো আদর্শ থেকে বিচ্যুত হবেন না, কিন্তু নীরবে হারিয়ে যেতে পারেন।”
দৈনিক জনজাগরণ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন মনে করেন, বিষয়টি সরকারপ্রধানসহ সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত, যাতে অতীতে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয়।

